এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

কন্যা-রত্ন প্রকল্পে ঐতিহাসিক ঘোষণা: দ্বিগুণ আর্থিক অনুদান, উচ্চশিক্ষায় ৫০ হাজারের সহায়তা

By Eaibanglai - August 15, 2026
— Advertisement —
Advertisement
কন্যা-রত্ন প্রকল্পে ঐতিহাসিক ঘোষণা: দ্বিগুণ আর্থিক অনুদান, উচ্চশিক্ষায় ৫০ হাজারের সহায়তা

সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- রাজ্যের নারীশিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘কন্যা-রত্ন দিবস’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর্থিক অভাব যেন কোনোভাবেই ছাত্রীদের পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্যেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কন্যা-রত্ন স্কলারশিপের বার্ষিক অনুদান ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ২,০০০ টাকা  করার ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার পথ মসৃণ করতে ৫০,০০০ টাকার বড়সড় আর্থিক সহায়তার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় স্কুলছাত্রীরা পড়াশোনার জন্য যে বার্ষিক ১,০০০ টাকা অনুদান পাচ্ছিল, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,০০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে আগের নিয়মেই ছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। এবারের ‘কন্যা-রত্ন দিবস’ উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১০ লক্ষের বেশি স্কুলছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ভেরিফিকেশনের পর মোট ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা যাতে মাঝপথে টাকার অভাবে বন্ধনা হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে বিশেষ আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকার ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে। এ ছাড়া, ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রীদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনাটি চালু রাখা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, যারা জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চায় কিংবা বিদেশে পড়াশোনা করতে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি স্বতন্ত্র তহবিল গঠন করা হয়েছে।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পূর্বতন ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘কন্যা-রত্ন’ এবং প্রতি বছর ১৪ই আগস্ট দিনটিকে ‘কন্যা-রত্ন দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী জানান যে এতদিন এই রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অংশীদার হলো, যার ফলে ছাত্রীরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সুযোগ-সুবিধাও লাভ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুলছাত্রী ও মহিলাদের যেকোনো আপৎকালীন ও সুরক্ষাজনিত সহায়তার জন্য একটি বিশেষ এবং ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর ‘১৮১’ চালু করার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি এই পদক্ষেপের ফলে নারীশিক্ষা ও তাদের আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement