সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- কলকাতা ও তারাপীঠের সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দুর্গাপুরের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তৎপরতা শুরু করেছে দমকল বিভাগ। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার ফের শহরের একাধিক হোটেলে অভিযান চলায় দমকল। এদিন দুর্গাপুরের কোক ওভেন থানা এলাকার একাধিক হোটেলে আচমকা অভিযান চালানো হয়। আর এই অভিযানে শহরের একাধিক নামী-দামী হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বেহাল ছবি সামনে উঠে এসেছে।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের অভিযানে গিয়ে দেখা যায় সিংহভাগ হোটেলেই ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি। বেশ কিছু হোটেলে যেমন পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সামগ্রী নেই, তেমনই অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, কয়েকটি বড় হোটেলে আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় জলের পাইপলাইন পর্যন্ত মজুত ছিল না বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তল্লাশি চালানো কয়েকটি হোটেলে আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দমকলের গাড়ি ঢোকার বা বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত রাস্তাটুকুও রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো বা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যে কতটা দুরূহ হয়ে উঠবে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ দমকল আধিকারিকরা।
এদিনের অভিযানের পর সুরক্ষাবিধিতে গাফিলতি থাকা এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী একাধিক হোটেল কর্তৃপক্ষকে চিহ্নিত করেছে দমকল। অবিলম্বে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজার এলাকার হোটেলগুলিতে অভিযান চালায় দমকল বিভাগ এবং সেখানেও সঠিক অগ্নিনর্বাপক নেই এমন একাধিক হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়।