নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- উৎসবের মরশুমে শহরের নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির খাবারের গুণমান এবং রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। দুর্গাপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকার একাধিক নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় আচমকা এক মেগা অভিযান চালাল রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অভিযান চালানো হয় হোটেল লাক্সর, হোটেল ব্যানার্জি ইন এবং বনলতা রেস্তোরাঁ সহ একাধিক নামকরা ও সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে। পরিদর্শন চলাকালীন প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই খাবারের গুণমান ও পরিবেশ নিয়ে একাধিক মারাত্মক অনিয়ম ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আধিকারিকদের নজরে আসে।
অভিযান চলাকালীন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা রান্নাঘরের ফ্রিজ এবং খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখেন। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণে পচা ও বাসি খাবার, ফাঙ্গাস বা ছত্রাক ধরা চিকেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে মজুত করে রাখা বাসি গ্রেভি ও পনির। শুধু তাই নয়, রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, বাটার এবং পাউরুটিও। উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত পচা মাংস ও ডেট ট্যাগ বিহীন বাসি খাবারগুলি আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই তৎক্ষণাৎ নষ্ট করে দেওয়া হয়। এছাড়া রান্নাঘরগুলিতে নোংরা ফ্রিজ এবং ঢাকনাবিহীন খোলা ডাস্টবিন ব্যবহারের ফলে মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়িয়ে রান্নাঘরের পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছিল।
এই গাফিলতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংস্থাগুলিকে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
অন্যদিকে, অভিযানের সময় এক রেস্তোরাঁ ম্যানেজার সাফাই দিয়ে দাবি করেন, কিছু পুরনো গ্রেভি তৈরি করে রাখা থাকলেও সেগুলি নিয়ম মেনেই ফেলে দেওয়া হতো এবং তার সাথে কিছু তাজা গ্রেভিও রাখা ছিল। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁরা সব বাসি জিনিস ফেলে দিয়েছেন ।
তবে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে আগামী দিনেও শহরের সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁয় এই ধরণের কঠোর ও অতর্কিত অভিযান লাগাতার জারি থাকবে।