সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর শহর জুড়ে গড়ে ওঠা বেআইনি ও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে দুর্গাপুর নগর নিগম । শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিগমের অনুমতি ছাড়া বা অনুমোদিত নকশা (Sanction Plan) লঙ্ঘন করে তৈরি হওয়া একাধিক বহুতল ও বাণিজ্যিক নির্মাণ চিহ্নিত করে সেগুলিকে ভেঙে ফেলার কড়া নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের নিজেদের খরচে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পদক্ষেপ না করা হলে, নগর নিগম বুলডোজার নামিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে সেই নির্মাণ ভেঙে দেবে এবং তার সমস্ত খরচ আইনত ওই মালিকদের কাছ থেকেই উসুল করা হবে বলে সাফ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্গাপুর নগর নিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাচিতির এম কে ব্লক এলাকায় একটি বাড়ির অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ হওয়ায় অভিযোগ উঠেছিলো। এই নির্মাণ নিয়ে দুর্গাপুর নগর নিগমে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। তারপর সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুর্গাপুর নগর নিগমের তরফে তদন্ত করা হয়। করা হয় শুনানিও। তাতে অভিযোগ সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মালিককে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার, বেনাচিতি, বিধাননগর, মামরা বাজার এবং নবনির্মিত কিছু আবাসন এলাকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহুতল নির্মাণের গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ছিল নগর নিগমের দপ্তরে। অনেক ক্ষেত্রে পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বুজিয়ে বাণিজ্যিক দোকান তৈরি করা অথবা দুই ভবনের মধ্যবর্তী বাধ্যতামূলক ফাঁকা জায়গা না ছেড়েই দেওয়াল তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
পৌর প্রশাসন সূত্রে খবর, এই ধরণের বেআইনি নির্মাণের ফলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা যেমন বিপর্যস্ত হচ্ছে, তেমনই সংকীর্ণ রাস্তায় দমকলের গাড়ি বা জরুরি পরিষেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
শহরের অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেছেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বলেন , "আগে জোড়াই ইলিশ নিয়ে প্ল্যান পাস করানো হতো। রাজনৈতিক নেতাদের তোষামোদ করে বহু অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে। তবে এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়ে । আইন ভেঙে কোনও নির্মাণই আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করবে এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে ধারাবাহিকভাবে।"