নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- স্বাধীনতা দিবসে দুর্গাপুর মহকুমার গোপালপুর গ্রামে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো রাজ্য স্তরের ‘অল বেঙ্গল কাবাডি’ তথা হাডুডু টুর্নামেন্ট। ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর হ্যান্ডিক্যাপড সোসাইটি কমিটি এবং গোপালপুর জয় মা কালী সংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মোট ১২টি প্রথম সারির ক্লাব অংশ নেয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং দুর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপস্থিত ক্রীড়ামোদিদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
ঐতিহ্যবাহী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দুস্থ মানুষদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে এই মঞ্চ থেকে হুইলচেয়ার এবং স্বনির্ভরতার জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি এলাকার মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয় বিশেষ স্কলারশিপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী দিওয়াকর ঘরামি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী, বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর হ্যান্ডিক্যাপড সোসাইটির সভাপতি শঙ্কর লাল আগরওয়াল, কমিটির সচিব গৌরাঙ্গ মণ্ডল, এবং গোপালপুর জয় মা কালী সংঘের সভাপতি, সচিবসহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীবৃন্দ।
গ্রামীণ বাংলার এই হারিয়ে যাওয়া খেলাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী দিওয়াকর ঘরামি বলেন, "আমাদের সময়ে কাবাডি বা হাডুডু খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু আধুনিকতার গ্রাসে এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গোপালপুরের মাটিতে এই খেলার এমন সুন্দর আয়োজন দেখে আমি আপ্লুত। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে আয়োজকরা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।" এর পাশাপাশি দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "অভাবী মানুষদের হাতে হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে।"
র্গাপুরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর ব্যানার্জীও আয়োজক সংস্থার এই মহতী সমাজসেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সমাজের অবহেলিত ও অভাবী মানুষদের কল্যাণে এই ধরণের মানবিক কাজ প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এই ধরণের যেকোনো সামাজিক ও ক্রীড়া উদ্যোগে তিনি সর্বাগ্রে পাশে থাকবেন বলে আয়োজকদের আশ্বাস দেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এই যৌথ প্রচেষ্টা দুর্গাপুরের বুকে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।