এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

কারখানার স্ল্যাগ আর গ্যারেজের লোহা কুড়ানোর পথও বন্ধ, বিশ্বকর্মার আলো নিভিয়ে কাঁকসার গরিবদের পেটে লাথি বসল নেতাদের উদাসীনতায়

By Eaibanglai - August 25, 2026
— Advertisement —
Advertisement
কারখানার স্ল্যাগ আর গ্যারেজের লোহা কুড়ানোর পথও বন্ধ, বিশ্বকর্মার আলো নিভিয়ে কাঁকসার গরিবদের পেটে লাথি বসল নেতাদের উদাসীনতায়

নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসাঃ- পেটে যখন ভাত নেই, তখন কিসের আবার বিশ্বকর্মা পুজো? শিল্পাঞ্চল কাঁকসার গোপালপুর ও বাঁধরা এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের গরিব, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে আজ নেমে এসেছে গভীর অমাবস্যা। কারখানার বিষাক্ত স্ল্যাগ আর গ্যারেজের জমানো লোহা কুড়িয়ে যাঁদের দু'বেলা দু'মুঠো অন্ন জুটত, সরকারি কড়াকড়ি আর একশ্রেণির নীতিবাগীশ নেতার হঠকারিতায় আজ সেই শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আর এর ফলেই আসন্ন বিশ্বকর্মা পুজোর আনন্দ তো দূরঅস্ত, চরম অনাহার আর হাহাকারে দিন কাটছে এই প্রান্তিক মানুষগুলোর।


​ভোরবেলা থেকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পঞ্জ আয়রন কারখানার জঞ্জাল থেকে ছোট ছোট লোহার টুকরো কুড়াতেন এই দিনমজুররা। কিন্তু আজ পেটের টানে বেঁচে থাকার সেই অধিকারটুকুও পদদলিত। অন্যদিকে, দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বিশ্বকর্মা পুজো মানেই ছোট গ্যারেজ মালিকদের একটু ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। সারা বছর জমে থাকা টুকরো লোহা বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ আসত, তা দিয়েই পুজোর আমেজে মেতে উঠত তাদের পরিবার।  পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে হাজার হাজার সাইকেল সারানো দোকান, গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে।


কিন্তু আজ সেই আশার আলো নিভে গেছে জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায়। বাজারে আগুন লাগা দ্রব্যমূল্যের মাঝে এই আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় দিশাহারা এই পরিবারগুলোর ঘরে আজ কান্নার রোল। ​এলাকার ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ভোট এলেই নেতাদের লম্বা লম্বা প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়, আর গরিব মারার সময় সবাই মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা উপেক্ষা করে এই মানুষগুলো যখন তিলে তিলে মরছে, তখন তথাকথিত রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। গরিবের ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর কোনো গরজ নেই এঁদের। বাবুদের উদাসীনতা আর চোখের পলক না ফেলার নীতির জন্যই আজ চরম দুর্দশার মুখে পড়তে হয়েছে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে। অবিলম্বে বিকল্প কর্মসংস্থান ও বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছেন সর্বস্বান্ত এই এলাকাবাসী। এখন প্রশ্ন, কবে ঘুম ভাঙবে জনপ্রতিনিধিদের?

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement