সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- জপ নিয়ে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়তা থাকলেও ধ্যান নিয়ে আমাদের মনের মধ্যে নানান রকম দ্বন্দ্ব সংশয় কাজ করে। ধ্যানের ক্ষেত্রে অনেকেই ভাবেন যে আমরা যখন ধ্যান করি তখন হৃদয়ের মধ্যে আমরা সাকার মূর্তির কল্পনা করবো এবং ভ্রু মধ্যে আমরা ইষ্টের নিরাকার মূর্তির ধ্যান করবো। এখন এই ধ্যানের পদ্ধতিটি সঠিক না ভুল তা নিয়েও নানান রকম প্রশ্ন তৈরি হয়। একবার একজন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘হৃদয়ে সাকার ও ভ্রু-মধ্যে নিরাকার ধ্যান করতে হয়, শুনেছি। এটা কি ঠিক?’
স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ বলেছেন,“হ্যাঁ, এমন বলা হয়। তবে এর চেয়ে বড় কথা, কোন্ জায়গায় ধ্যান করলে আপনার সুবিধা হয়? আর দীক্ষা হয়ে থাকলে গুরুদেব যেভাবে বলেছেন সেভাবেই করুন।” মহারাজ আরও বলেন যে,“অধিকাংশ মানুষের পক্ষে হৃদয়ে ধ্যান সহজ মনে হয়। ভ্রু-মধ্যে করলে মাথা ব্যথা হতে পারে। তাই গুরুদেব সাধারণত হৃদয়ে করতে বলেন। তাছাড়া ভক্তিপথে হৃদয়ে ও জ্ঞানপথে ভ্রু-মধ্যে ধ্যান করতে বলেন অনেকে। ঠাকুরকে ভ্রু-মধ্যে ধ্যান করতে শিখিয়েছিলেন তোতাপুরী। তবে নবীন সাধক হৃদয়ে ধ্যান করলেও পরে তার চেতনা উঠে যায় ভ্রু-মধ্যে। এভাবে দুই স্থানেই তিনি অনুভব করেন যতদিন না ধ্যানে দেহ-বোধ বিলীন হয়ে যায়। আর ভ্রু-মধ্য দিয়ে যিনি সাধনা শুরু করেন, তিনিও পরে হৃদয়ে চেতন অনুভব করেন যতদিন না দেহ-বোধ বিলীন হয়।”











