eaibanglai
Homeএই বাংলায়মহিলারা কি রাতে নিরাপদে কাজে বেরোতে পারবেন না? প্রশ্ন পানাগড়ে ইভটিজিংয়ের বলি...

মহিলারা কি রাতে নিরাপদে কাজে বেরোতে পারবেন না? প্রশ্ন পানাগড়ে ইভটিজিংয়ের বলি তরুণীর মায়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- রবিবার রাতে পানাগড়ে ঘটে যাওয়া ইভটিজিংয়ের জেরে দুর্ঘটনায় মৃত তরুণীর মা এবার প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে। দুর্গাপুরে মেয়ের দেহ নিতে এসে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রসঙ্গত রবিবার রাতে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় চন্দনগরের তরুণী সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু পর সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। তরুণীর দেহ নিতে দুর্গাপুরে পৌঁছেছিলেন তাঁর মা তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়। জানা গেছে আট মাস আগেই মৃত্যু হয়েছে তনুশ্রীদেবীর স্বামীর। সুতন্দ্রা তাঁর একমাত্র সন্তান ছিলেন। স্বামী সন্তান হারিয়ে এখন বাড়িতে কেবল বৃদ্ধা মা ও শাশুড়ি। এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে তনুশ্রীদেবী রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বারে বারে একই ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার পাচ্ছে? কেউ পাচ্ছে না। একমাত্র সন্তান, বাড়ির একমাত্র রোজগেরে চলে গেল, এখন আমি কি নিয়ে থাকব?” তিনি জানান,” গত প্রায় ৭-৮ বছর ধরে ইভেন্ট মেনেজম্যান্ট কোম্পানি চালাচ্ছিল তাঁর মেয়ে। নানান অনুষ্ঠানের কাজ রাতের দিকে হয় তাই প্রায় রাতে কাজে বেরোতে হতো মেয়েকে। ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য়প্রদেশ বিভিন্ন জায়গায় কাজের জন্য যেতে হতো। তা বলে কি রাতে মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপদে যাওয়াত করতে পারবে না? বাড়িতে বসে থাকতে হবে?” প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতিরও অভিযোগ করেছেন তিনি। কেন রাতে জাতীয় সড়কে পুলিশের নজরদারি ছিল না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে বাজেয়াপ্ত হওয়া দুষ্কৃতীদের ওই গাড়ির নম্বর প্লেট থেকে জানা গেছে গাড়িটির মালিক স্থানীয়। তার পরও প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা কেটে গেলেও ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রসঙ্গত গতকাল রাত ৯ টা নাগাদ চন্দননগরের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বিহারের গয়ার উদ্দেশ্যে কাজে বেরিয়েছিলেন বছর ২৭ এর সুতন্দ্রা। গাড়িতে চালক ছাড়াও ছিলেন তিন পুরুষ সহকর্মী। রাত ১২,৩০ নাগাদ তাঁরা বুদবুদের কাছে জাতীয় সড়কের ধারে একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দাঁড়ান। অভিযোগ সেখান থেকেই অন্য একটি গাড়িতে জনা পাঁচেক মদ্যপ যুবক সুতন্দ্রাকে কটুক্তি ও গাড়ির গতি বাড়িয়ে ধাওয়া করতে
থাকে। গাড়ির চালক জানান তিনিও গাড়ির গতি বাড়িয়ে চলে যেতে চেষ্টা করেন কিন্তু ওই যুবকেরা বার বার চলন্ত গাড়িতেই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিতে থাকে। অবশেষে পানাগড় বাজারের কাছে ওই যুবকেরা তাদের গাড়ি আটকাতে চাইলে তিনি দ্রুত গতিতে গাড়ি ঘোরাতে গেলে গাড়ি রাস্তার পাশে থাকা শৌচাগারে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুতন্দ্রার, জখম হন গাড়িতে থাকা আরও দুজন। পরে কাঁকসা থানার পুলিশ গিয়ে সকলকে উদ্ধার করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় ও গাড়ি দুটি আটক করে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments