সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- অন্নপূর্ণা যোজনার বকেয়া টাকা না মেলার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে নারী শক্তির ক্ষোভ আছড়ে পড়ল সরকারি দপ্তরে। বিগত কয়েকদিন ধরে চলা এই আন্দোলন শুক্রবারও জারি ছিল। বাদ পড়েনি পশ্চিম বর্ধমান জেলাও। এদিন আসানসোল ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় যোগ্য উপভোক্তা মহিলারা রাস্তায় নেমে সোচ্চার হন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোথাও চলল বিডিও অফিস ঘেরাও, আবার কোথাও দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধের জেরে স্তব্ধ হলো যান চলাচল।
এদিন দুর্গাপুর মহকুমার অন্ডাল ব্লকে বিক্ষোভে নামেন মহিলারা। সকাল থেকেই দলে দলে মহিলারা অন্ডাল বিডিও অফিস ঘেরাও করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র এবং নিয়ম মেনে ফর্ম জমা দেওয়া সত্ত্বেও মাসের পর মাস তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকছে না। বিডিও অফিস বা অন্য কোনও প্রশাসনিক স্তরে বারবার চক্কর কেটেও মিলছে না কোনও স্পষ্ট উত্তর। কেন তাঁদের নাম বাতিল হলো, সে বিষয়েও অন্ধকারেই রাখা হয়েছে তাঁদের। সংসারের কাজ ফেলে দিনের পর দিন সরকারি দপ্তরে এসে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর ক্ষুব্ধ মহিলারা অন্ডাল মোড়ের জিটি রোড অবরোধ করেন। ব্যস্ততম এই সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে, আসানসোলের বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকেও একই ছবি ধরা পড়ে। সেখানে বিডিও অফিসে মহিলাদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের বচসা শুরু হয় এবং অভিযোগ, উত্তেজনার পারদ চড়তেই অফিসের কয়েকটি চেয়ারও উল্টে ফেলে দেওয়া হয়। বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ আধিকারিকরা ক্ষুব্ধ মহিলাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিক্ষোভকারী মহিলাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রশাসন যদি দ্রুত এই অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা না করে, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।