এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মুদ্রা মুদ্রণ শাখা গত শুক্রবার নির্মাতাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংবলিত পলিমার সাবস্ট্রেট শিট সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। যা তাদের নিজস্ব ছাপাখানায় এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ছাপাখানায় ভারতীয় ব্যাংকনোট মুদ্রণে ব্যবহৃত হবে। ভারতীয় নোট ছাপানোর জন্য আরবিআই-এর মুদ্রণ শাখা উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসহ পলিমার সাবস্ট্রেট শিটের জন্য বিশ্বব্যাপী দরপত্র আহ্বান করেছে। বিশেষ নিরাপত্তা কালি ব্যবহার করে প্রথম পলিমার নোট সম্ভবত ১০ এবং ২০ টাকার হবে। প্রাথমিক চাহিদা প্রায় ৬৮,০০০ রিম বিওপিপি শিটের। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই চীন বা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে হবে। ডিপিআইআইটি (DPIIT) নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে হবে। নমুনা সরবরাহ করতে হবে এবং পলিমার নোট সরবরাহে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে হবে। ব্লুমবার্গ নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আগ্রহী সংস্থাগুলোকে ২০২৬ সালের ১৮ই আগস্টের মধ্যে তাদের দরপত্র জমা দিতে হবে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত মাসে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছিলেন, “যে পলিমার নোটের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে,তবে তা কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে।” এই পদক্ষেপটি প্লাস্টিক মুদ্রা চালুর দিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ, যা অবশেষে কিছু কাগজের নোটের স্থান নিতে পারে। তা হলে কি ভারত পলিমার নোট তৈরি করতে চাইছে? প্রাথমিকভাবে দুটি মূল্যমানের জন্য প্রায় ৬৮,০০০ রিম বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন (BOPP)-ভিত্তিক সাবস্ট্রেটের প্রয়োজন হবে। প্রতিটি রিমে ৫০০টি শিট থাকবে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) জানিয়েছে যে, “মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা সফল হলে,তারা ভবিষ্যতের টেন্ডারের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্যমানের জন্য আরও বেশি পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে।”
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এএনআই জানিয়েছে,”প্রথম পলিমার নোট ১০ এবং ২০ টাকার কম মূল্যমানে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নিরাপত্তা কালি ব্যবহার করে ব্যাংকনোটগুলো ছাপা হবে।” বিডিং প্রক্রিয়ার জন্য গত শুক্রবার আরবিআই কারেন্সি প্রিন্টারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আগ্রহপত্রে (EOI) অংশগ্রহণকারীদের জন্য কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে চীন বা পাকিস্তানে তাদের কার্যক্রম এই দুটি দেশ থেকে কোনো কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে না এবং এমন কোনো কর্মী নিয়োগ করা যাবে না, যিনি কোনো পদে থেকে চীন বা পাকিস্তানে কাজ করেছেন। যৌথ উদ্যোগের অংশীদার বা সহায়ক সংস্থাসহ দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় দরদাতাকেই কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংকনোট ও নিরাপত্তা মুদ্রণ সংস্থাকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসহ পলিমার সাবস্ট্রেট সরবরাহের ক্ষেত্রে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাদের অবশ্যই ন্যূনতম ২০,৪০০ রিম (নির্দেশিত পরিমাণের ৩০%) সরবরাহ করতে হবে। আবেদনকারীদেরকে পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য পশুর চর্বি বা ডিএনএ-মুক্ত হিসেবে প্রত্যয়িত কমপক্ষে ১০টি পলিমার শিটের নমুনা জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্রের যোগ্যতার প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে। এই চাহিদাটি শুধুমাত্র একটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এবং উপাদানটির মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা সফল প্রমাণিত হলে পরবর্তী টেন্ডারগুলোতে বিভিন্ন পরিমাণে বৃহত্তর পরিসরে সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।

















