eaibanglai
Homeএই বাংলায়কামদা একাদশীর দিন জানুন এই ব্রত করলে কী ফল পাওয়া যায়?

কামদা একাদশীর দিন জানুন এই ব্রত করলে কী ফল পাওয়া যায়?

সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আজ কামদা একাদশী। পুরাণ মতে ভক্তি ভরে এই একাদশী পালন করলেন মনের সকল শুভ বাসনা পূর্ণ হয়। কারণ কামদা শব্দের অর্থ‍ই হল যা সকল কামনা বা ইচ্ছা পূরণ করে। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই পুণ্যতিথিতে তাই একাদশী ব্রত পালন করুন আর নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করুন।

এই দিন সকাল সকাল স্নান করে নির্জলা ব্রত বা পারলে অনুকল্প প্রসাদ গ্রহণ করুন। শ্রীকৃষ্ণ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন। ভগবান বলেছিলেন যে যে ব্যক্তি শ্রদ্ধা মনে এই ব্রত করেন, সে বাজপেয় যজ্ঞের ফলের সমান ফল পায় আর তার বিগত জন্মের সকল পাপকর্ম নষ্ট হয়ে যায়। সে পূণ্য কর্মের অধিকারী হয় ও মৃত্যুর পর বৈকুন্ঠ লোকে যায়। আজকের দিনে যারা একাদশী করবেন তারা আগামীকাল পারনের আগে অতি অবশ্যই এই একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ করবেন শ্রদ্ধা সহকারে ও মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে তবে ব্রত ভঙ্গ করবেন। হরে কৃষ্ণ, রাধে রাধে।

অনেক কাল আগে বশিষ্ঠ মহারাজ দিলীপের কৌতুহল নিবারণের জন্য এই ব্রতেরকথা কীর্তন করেছিলেন আর পরবর্তীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে এই কথা বলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে, ঋষি বশিষ্ঠ বলেছিলেন- হে মহারাজ, কামদা একাদশী তিথি পাপনাশক ও পূণ্যপ্রদানকারী । পূর্বকালে মনোরম নাগপুরে স্বর্ণ নির্মিত গৃহে বিষধর নাগকুল থাকত । তাদের রাজা ছিলেন পুণ্ডরীক । গন্ধর্ব, কিন্নর ও অস্পরারা তার সেবা করতেন। সেই পুরীমধ্যে অস্পরা শ্রেষ্ঠ ললিতা ও ললিত নামে গন্ধর্ব স্বামী-স্ত্রী রূপে ঐশ্বর্য্যপূর্ণ এক গৃহে সুখে দিনযাপন করত । একদিন পুণ্ডরীকের রাজসভায় ললিত একা গান করছিল তখন ললিতার কথা তার মনে পড়ায় সঙ্গীতের সুর লয়-তাল-মানের বিপর্যয় ঘটে। কর্কটক নামে এক নাগ ললিতের মনোভাব বুঝতে পারে ও পুরো বিষয়টি সে পুণ্ডরীককে জানায়। তা শুনে সর্পরাজ ক্রোধভরে কামাতুর ললিতকে – তুমি রাক্ষস হও বলে অভিশাপ দেন আর সঙ্গে সঙ্গে সেই ললিত রাক্ষসমূর্তি ধারণ করে। ললিতের এই রাক্ষস শরীর দেখে ললিতা মহা দুঃখে চিন্তায় ব্যাকুল হল ও স্বেচ্ছাচারী রাক্ষস ললিত দূর্গম বনে ভ্রমণ করতে লাগল। তবে ললিতা তার সঙ্গ ত্যাগ করল না । ললিত নির্দয়ভাবে মানুষ ভক্ষণ করত আর এই পাপের ফলে তার মনে বিন্দুমাত্র শান্তি ছিল না। পতির এমন দুরবস্থা দেখে ব্যথিত চিত্তে ললিতা কাঁদতে কাঁদতে একদিন গভীর বনে প্রবেশ করে ও সৌভাগ্য ক্রমে বিন্ধ্যপর্বতে এসে উপস্থিত হয় । সেখানে ঋষ্যশৃঙ্গ মুনির আশ্রম দর্শন করে মুনির কাছে যায়। মুনিবর জিজ্ঞাসা করেন, হে সুন্দরী, তুমি কে, কার কন্যা , কী কারণেই বা এই গভীর বনে এসেছ ? তা সত্য করে বল । তখন ললিতা বলল- হে প্রভু ! আমি বীর ধন্যা গন্ধর্বের কন্যা । আমার নাম ললিতা । আমার পতির পিশাচত্ব দূর হয় এমন উপায় জানবার জন্য এখানে এসেছি। তখনই ঋষি চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের কামদা একাদশী পালন করার কথা ললিতাকে বলেন এবং তিনি এও বলেন যে এই ব্রতের পুণ্যফল ললিতা নিজের স্বামীকে ললিতকে অর্পণ করলে তৎক্ষনাৎ তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হবে।

এরপ্য মুনির কথা শুনে ললিতা আনন্দ সহকারে কামদা একাদশী পালন করে ও সেই কামদা একাদশীর ব্রতের সমস্ত ফল পতির উদ্দেশ্যে অর্পণ করে এর প্রভাবেই তাঁর পিশাচত্ব দূর হয় ও ললিত শাপ মুক্ত হয়ে দিব্য দেহ প্রাপ্ত হয়। পুনরায় সে গন্ধর্ব দেহ লাভ করে ললিতার সাথে বিমানে করে গন্ধর্ব লোকে গমন করে।

এই ব্রত যত্নসহকারে সকলেরই পালন করা কর্তব্য। এই ব্রত ব্রহ্মহত্যা পাপবিনাশক ও পিশাচত্ব মোচনকারী । এই ব্রত কথা শ্রদ্ধাপূর্বক পাঠ ও শ্রবণে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments