সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- ব্রহ্মচিন্তা কীসে হয়? জানেন? একবার একজন ভক্ত প্রশ্ন করেছিলেন মনে মনে আমি আত্মা এমনটা ভাবলেই কি ব্রহ্মচিন্তা আসে? এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ বলেছেন, “আত্মা সম্বন্ধে ধারণা থাকলে এভাবে ব্রহ্মচিন্তা করতে পারেন। এভাবে না করে কেউ প্রথমে মনকে শান্ত করেন। একটু গভীরে দেহবোধ নেই, সময় জ্ঞান নেই। নিজের সত্তাকে চেতনমাত্র বলে অনুভব হতে থাকে। অনেক সাধক এই অবস্থায় স্থিত থাকেন। পরে আরো গভীরে যান। আবার কেউ মন রাখেন আমি বোধে। অর্থাৎ “আমি” ভাবকে অনুভব করতে থাকেন।
প্রথম পদ্ধতিতে কল্পনা করতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয়তে অনুভবে গুরুত্ব দেয়। আর কোনো সাধক ধ্যান করেন আত্মার গুণের উপর। যেমন বিশাল, দীর্ঘস্থায়ী, হাওয়ার মতো ব্যাপক, সাদা জ্যোতি ইত্যাদি। বৌদ্ধরা ধ্যান করেন অন্যরকম গুণের উপর। যেমন করুণা, মৈত্রী, উপেক্ষা ইত্যাদি। দৃকদৃশ্যবিবেক শাস্ত্রেও সুন্দর এক পদ্ধতি আছে যা চোখ খুলে শুরু করা যায়। শঙ্করাচার্যের “নির্বাণ ষটক”, নেতি_নেতি পথে সাধনা। তবে কোনো সাধক বা গুরুর কাছে এসব শিখলে ভাল হয়। সাধনার এক স্তরে অনুভব হয় সবকিছু শূণ্য। অনেক সাধক ভয় পান এখানে।”



















