নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- কর্মসংস্থান থেকে হকার সমস্যা সমাধান, দূষণ থেকে নাগরিক পরিষেবা দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থীর ইস্তেহারে উঠে শিল্পাঞ্চলের একাধিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস।
প্রসঙ্গত আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে মনোনয়নের পালা। জোর কদমে জলছে রাজনৈতিক প্রার্থীদের প্রচার প্রসার। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে প্রার্থীদের নানান সমস্যা সমাধানের আশ্বাস, প্রতিশ্রুতির বন্যা। এরইমাঝে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী পেশ করলেন তাঁর নির্বাচনী ইস্তেহার। যেখানে শিল্পাঞ্চলবাসীর জন্য নানা সমস্যা সমাধান ও প্রতিশ্রুতি তো রয়েইছে। তবে অরাজনৈতিক আঙিনা থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা কবিবাবু মূলত কর্মসংস্থানকেই তুরুপের তাস হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দুর্গাপুরের প্রধান ক্ষত হল কর্মসংস্থান, আর সেই ক্ষত নিরাময়ই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এদিন ইশতেহার প্রকাশ করে কবি দত্ত জানান, শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার যুবকদের বড় অংশ কর্মহীন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি কর্মভূমি’ নামে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেখানে স্থানীয় শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের নাম নথিভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জোয়ার আনা হবে এবং স্থানীয় ভূমিপুত্রদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ‘চাকরির সংরক্ষণ’নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়াও তাঁর ইস্তেহারে উঠে এসেছে শহরের বহুদিনের অন্যতম সমস্যা হকার, পুনর্বাসন ও ভূমিস্বত্ব বিষয়গুলি। তাঁর ইশতেহারে জায়গা করে নিয়েছে ক্ষুদ্র হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন এবং শিল্পাঞ্চলের মানুষের জমির অধিকার নিশ্চিত করতে ‘পুনর্বাসন সংক্রান্ত জমির নবীকরণ, মিউটেশন এবং পাট্টা প্রদান’প্রক্রিয়া। দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও শহরের অন্যতম ইস্যু দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তাঁর ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহ ও নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রকেও। দুর্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণে এনে সবার জন্য সুলভ শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি শহরের পরিকাঠামোর উন্নয়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বাস টার্মিনাস তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে তার ইশতেহারে।
কবিবাবু এদিন জানান, অরাজনৈতিক জগৎ থেকে আসার ফলে শহরের সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি এবং ভোটে জিতলে সেইসব সমস্যা সমাধানের মাধ্য়মে তিনি নিজের শহরকে উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতো রাজনীতির ময়দানে নবাগত হলেও ভোটের ময়দানে তাঁর লড়াইয়ের ধরণ বেশ পরিণত। এখন দেখার বিষয় শহরের জ্বলন্ত সমস্যাগুলোর সমাধানের আশ্বাস দিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের মানুষের মন জয় করে ভোটের বৈতরণী পার করতে পারেন কিনা পোড় খাওয়া ব্যবসায়ী তৃণমূলের প্রার্থী।


















