নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- শনিবার এক নতুন ভোরের সাক্ষী থাকল বাংলা। ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সকাল থেকেই ব্রিগেডের মানুষের ঢল নামে। চারদিকে শুধু ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি আর গেরুয়া পতাকা, তৈরি করে এক নজিরবিহীন পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি মঞ্চে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিলেন দেশের একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা থেকে শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু – উপস্থিত ছিলেন বিজেপিশাসিত প্রায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল, সিকিম, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীরাও বাংলার এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারী বার বার জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে তিনি রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চান। কিন্তু কি এই রাম রাজ্য? আসলে রামরাজ্য হল রামায়নে উল্লেখিত রামচন্দ্র কর্তৃক শাসিত একটি আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্র, যা শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুশাসনের প্রতীক। এটি এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রজারা সুখী, ধর্মপরায়ণ ও নিরাপদ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ধনী-দরিদ্র সমান অধিকার নিয়ে নিশ্চিৎ সুরক্ষায় বসবাস করবে। যেখানে আইন ও শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলা হবে আবার সত্য, সহানুভূতি ও দয়ারও স্থান থাকবে। যেখানে কোনো পাপ বা অন্যায় সংঘটিত হবে না। যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি বিশেষ সুরক্ষা ও যন্তের ব্যবস্থা থাকবে। সহজ কথায়, রাম রাজ্য হলো একটি আদর্শ রাষ্ট্র যেখানে শাসকের চেয়েও প্রজাদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এদিকে শপথ গ্রহণের ঠিক আগেই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে নিজের পরবর্তী কর্মপন্থা স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’-এ দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, নতুন সরকারের মূল মন্ত্রই হবে – ‘কথা কম, কাজ বেশি’।
বাংলার মানুষ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে রাজ্যের শাসনভার বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছে, যেখানে বিজেপি নেতৃত্ব বার বার সুশাসন বা ‘রাম রাজ্য’ প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসে ভরসা রেখেই মানুষের এই পরিবর্তনের রায়। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী সেই আশ্বাসকে কতটা কাজে রূপান্তরিত করতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর।


















