সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- এ যেন অসাধ্য় সাধন! ইঁটভাটা, পাথর খাদানে কাজ করা কিশোরীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে এনে মাধ্যমিক পাশ করানো। সেই কাজই করে দেখালো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বনসরাকডিহির ” ফিড বই টই হই চই ফ্রি কোচিং স্কুল “।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এই কোচিং স্কুলের ২০ জন পড়ুয়াই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। ওরা সকলেই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলো আসানসোলের পাঁচগাছিয়ার কমলা গার্লস হাইস্কুল থেকে। সকলেই আর্থিক ভাবে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া পরিবারের। কারো বাবা নেই, আবার কারোর কারোর মা কাজ করেন পাথর খাদানে। এই আধুনিকতার যুগেও কারোর বাড়িতে নেই লাইট। সবকিছুর বাধা কাটিয়ে চলেছে পড়াশোনা। আর তাতেই এসেছে সাফল্য।
ওদেরই একজন পলাশডিহা বাউড়ি পাড়ার রীতা বাউড়ি। বাড়িতে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ । বাবা অসুস্থ, সংসারের হাল ধরতে মা কাজ করেন পাথর ভাঙা কলে। এবার মাধ্যমিক পাশ করেছে রীতা। ২০ জনের মধ্যে আছে সরাকডিহির শ্রেয়া পাইক। তার বাবা দিন মজুর, মা অসুস্থ। সংসারের সমস্ত কাজ করেও মাধ্যমিক দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেছে সে। রয়েছে নন্দিনী বাউড়ি। বাবা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সংসার করেছে। মা দিন মজুর, আছে আরো দুই বোন । লড়াই চালিয়ে পাশ করেছে নন্দিনীও।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” ফিড”র তরফে চন্দ্রশেখর কুন্ডু তাদের পাশে যারা দাঁড়িয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, “এই এসম লাড়াই জেতা সম্ভব হয়েছে সমস্ত অনুদানকারী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য। সম্ভব হয়েছে ফিড’র সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য। সম্ভব হয়েছে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য।”
অন্যদিকে সফল এই ছাত্রীদের অভিভাবকদের মতো অন্ধকারকে পিছনে ফেলে আলোর এই দিন এসেছে শুধুমাত্র ফিডের ফ্রি কোচিং সেন্টারের জন্যই। বাড়িতে দারিদ্যতা, অসুস্থতা, অশান্তি, পড়াশোনার কোন পরিবেশ নেই, বইখাতা নেই তা সত্ত্বেও পড়ুয়াদের পাশে থেকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দিয়েছে ” ফিড বই টই হই চই ফ্রি কোচিং স্কুল। “


















