সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোল, দুর্গাপুরঃ- রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিকভাবে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে। বাদ নেই আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। একই দিনে পুলিশ অভিযানে গ্রেফতার হলেন আসানসোল ও দুর্গাপুরের দুই তৃণমূল নেতা- আইএনটিটিইউসি ও আসানসোল ব্লক সভাপতি রাজু আলুওয়ালিয়া এবং দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শতদ্বীপ ঘটক। দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি, তোলাবাজি, সন্ত্রাস আর সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগে রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আসানসোল দক্ষিণ থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল জিটি রোডের বিএনআর মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজু আলুওয়ালিয়াকে প্রথমে আটক করে। সেখান থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোল দক্ষিণ থানায়। পরে রাতে দীর্ঘ জেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে ঢোকার সময়ে রাজু আলুওয়ালিয়া দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। মিথ্যে মামলা করা হয়েছে। তিনি দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর ফরিদপুরের লাউদোহা এলাকার বাসিন্দা শতদ্বীপ ঘটককে গ্রেফতার করে ফরিদপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, তার মদতে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল । বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠছিল তার বিরুদ্ধে। সোমবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। এদিকে আদালতে ঢোকার সময় ধৃত তৃণমূল নেতা বলেন, “২০২১ সালের কোন অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই সময় আমার বাবা মারা গেছিলেন। আমি শোকের মধ্যে ছিলাম। তার আরো বক্তব্য, এখন রাজ্য জুড়ে কি হচ্ছে সবাই দেখছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এমন হচ্ছে।”
এদিকে রাজু আলুওয়ালিয়া ও শতদ্বীপ ঘটকের মতো তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতারির পর দুর্গাপুর আসানসোল শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে রাজু আলুওয়ালিয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার গ্রেফতারির পর মলয় ঘটককে নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চলে।



















