নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: আসানসোল, চিত্তরঞ্জন থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত গোটা শিল্পাঞ্চলকে পূর্বতন সরকার কার্যত খরায় পরিণত করেছিল বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে পাঁচ জেলার সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি সমস্ত সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলে কীভাবে পুনরায় শিল্পের জোয়ার আনা যায় এবং যুবসমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করছেন।
অন্যদিকে এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান শাসকদলকে কড়া ভাষায় বিঁধে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা-পাচামির মতো ফ্রড (প্রতারণামূলক) কথাবার্তা বলি না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— কথা কম, কাজ বেশি। যা বলব, ভেবেচিন্তে বলব, আর যেটা বলব, সেটা করেই দেখাব।”
শিল্পের পাশাপাশি এদিন সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরে তিনি বলেন, “অতীতে এই ধরণের প্রশাসনিক সভাগুলোর পেছনে সরকারের ২ থেকে ৪ কোটি টাকা খরচ হতো। তিন দিন ধরে সমস্ত স্যুট বুক থাকত এবং ৪০ জন আইএএস, ৫০ জন আইপিএস ও ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করে কোটি কোটি টাকা জলে ফেলা হতো।” প্রশাসনিক খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে তাদের বর্তমান সরকার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজকে আমাদের ন্যূনতম যেটুকু না করলেই নয়, সেটুকু করা হয়েছে। সবাই দুপুরের পরে যোগদান করলেন এবং সন্ধ্যার সময় যে যার বাড়ি চলে গেলেন। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ কমানোর উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা এই কাজ করেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, এটি একটি ‘প্রো-পিপল’ অর্থাৎ জনমুখী এবং ডবল ইঞ্জিন সরকার। জনগণ যা চাইবে, এই সরকার ঠিক তাই করবে। “আপনার সরকার আপনার পাশে”— এই বার্তা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সমস্ত রকম পরিষেবা পাওয়ার আশ্বাস দেন।



















