সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- রাজ্যে ক্ষমতায় আশার পর পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্মও। যা পূরণ করে জমা দিতে হবে এই যোজনার সুবিধা বা ভাতা পেতে গেলে। এদিকে এই ফর্ম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ ১২ পাতার বিশাল ফর্মে আবেদনকারী ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের আয়, আয়কর, জমি, বাড়ির তথ্য সহ নানা জটিল তথ্য চাওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মহিলাদের পক্ষে ওই দীর্ঘ ও জটিল ফর্ম পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরকারের তরফে ফর্ম ফিলাপের জন্য বিভিন্ন ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক রং ভুলে এলাকার মহিলাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন বাঁকুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রাজীব দে। যার জন্য রীতিমতো শিবির খুলেছেন তিনি।
রাজীববাবুর দাবি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের কর্তব্য পালন করতেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, “রাজনীতির রং দূরে সরিয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থাকাটাই আমার প্রধান কাজ। অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্মটি বেশ বড় এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তা একা পূরণ করা অসুবিধাজনক হচ্ছে। তাই জনস্বার্থেই এই শিবির করে ফর্ম পূরণে সাহায্য করছি।”
তৃণমূল কাউন্সিলরের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিরোধী শিবিরও। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সৌগত পাত্র জানান, এই ঘটনায় বিতর্কের কোনো জায়গা নেই। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজীব দে অত্যন্ত সঠিক এবং প্রশংসনীয় কাজই করছেন।
অন্যদিকে বিজেপি সরকারের এই জনমুখী উদ্যোগে মহিলারা খুশি হলেও ফর্ম নিয়ে একাংশের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে— সিঙ্গল মাদার, ডিভোর্সী, বিধবা কিংবা যাঁরা সম্পূর্ণ একা থাকেন, তাঁদের পক্ষে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা বেশ কঠিন। তাই এই বিশেষ শ্রেণির মানুষদের ক্ষেত্রে নথিপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলে অনেকেরই সুবিধা হবে।


















