eaibanglai
Homeএই বাংলায়ডিএসপি কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের

ডিএসপি কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ– গত ১০ জুলাই মধ্যরাত্রে নাইট শিফটে কাজ করার সময় দুর্গাপুর স্টীল প্ল্যান্টের ব্লাস্ট ফার্নেসে ঠিকা শ্রমিক শেখ শহিদুলের মর্মান্তিক মৃত্য়ু হয়। জানা যায় বছর ২৬-এর শেখ শহিদুল প্ল্যান্টের ব্লাস্ট ফার্নেস ডিপার্টমেন্টের ২ নম্বর ফার্নেসে রক্ষনাবেক্ষণের কাজ করার সময় রড ভেঙে গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যান। তাঁর সহকর্মীরা জানান দেহ দগ্ধ হয়ে এমনভাবে কুণ্ডলী পাকিয়ে যায় যে দেখে চেনার উপায় ছিল না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,মাত্র ১৪ দিন আগে বিয়ে হয়েছিল শেখ শহিদুলের, ২২ বছর বয়স্ক রেজিনা খাতুনের সঙ্গে ।

অন্যদিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর, দুর্ঘটনার তদন্ত, মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকা সহ শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন বা এইচএসইইউ। দুর্ঘটনার বিষয়টি সামনে আসতেই হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নেতৃত্ব তথা ইউনিয়নের প্ল্যান্ট লেভেল কনসালটেটিভ কমিটি অব সেফটি সদস্যরা এবং ব্লাস্ট ফার্নেস ডিপার্টমেন্টের ইউনিয়ন নেতৃত্ব টানা প্রায় ১৬ ঘন্টা ধরে সদর্থক তৎপরতা চালান।

যেমন- দুর্ঘটনার সম্ভাব্য সমস্ত কারণের খুঁটিনাটি জেনে সেই সব কারণ নিয়ে নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এবং কারখানার এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর (ওয়ার্ক্স)-এর সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্ল্যান্ট কন্ট্রোল, ব্লাস্ট ফার্নেস ডিপার্টমেন্ট, নিরাপত্তা বিভাগ, পার্সোনেল বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগ, এমআরডি বিভাগ, প্ল্যান্ট মেডিকেল ইউনিট সহ হাসপাতাল বিভাগ, ইন্সপেক্টর অব ফ্যাক্টরিজ সহ রাজ্য সরকারের পুলিশ-প্রশাসন ,সবার সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ করে চলে ইউনিয়ন। কারখানার ফায়ার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট ও প্ল্যান্ট মেডিকেল ইউনিট সহ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের সক্রিয় সহযোগিতায় অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মৃতদেহের অবশেষ উদ্ধার করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নেয় এইচএসইইউ।

অন্যদিকে নিহত শ্রমিকের সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, সকলের মধ্যে সমন্বয় করানোর কাজ করেন এইচএসইইউ-এর সদস্যরা। মৃত যুবকের স্ত্রী রেজিনা খাতুন-এর পরিচয়পত্র জোগাড় করে তৎপরতা নেওয়া হয় যাতে তিনি দ্রুত চাকরি পেতে সুবিধা পান। পার্সোনেল বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হয় যাতে চাকরি ছাড়াও কর্মস্থলে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ সহ অন্যান্য আর্থিক সুযোগ সুবিধাগুলি মৃতের পরিবার সঠিকভাবে পায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অতীতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা সহ সেইলের কোনো ইউনিটে কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের মৃত্যুর পর পরিবারের চাকরির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝি সিটু অনুমোদিত ইউনাইটেড কন্ট্রাক্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (ইউসিডব্লিউইউ) -এর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে ঠিক হয় যে, ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যুর সাথে সাথেই তাঁদের পরিবারের একজন চাকরি পাবেন। পরবর্তীতে এই নিয়ম সেইলের সমস্ত ইউনিটেই চালু হয়। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অভ্যন্তরে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত কোনো ঠিকা শ্রমিকের পরিবারের কোন একজন সদস্যের চাকরি পেতে কোনো অসুবিধায় হয়নি। হিন্দুস্থান স্টীল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন বরাবর নৈতিকভাবে এবং সক্রিয়তার সাথে শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছে সমস্ত ক্ষেত্রেই ঠিকা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এইচএসইইউ-এর শ্রমিক নেতা সীমান্ত চ্যাটার্জী জানান, ইউনিয়নের তরফে নজর রাখা হবে যাতে কর্তৃপক্ষের দেওয়া কথা মতো শেখ শহিদুলের পরিবার দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও চাকরি পায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments