eaibanglai
Homeএই বাংলায়বিজেপি কর্মী দ্বারা হাইকোর্টের আইনজীবী আক্রান্তের অভিযোগ

বিজেপি কর্মী দ্বারা হাইকোর্টের আইনজীবী আক্রান্তের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা,পূর্ব বর্ধমান:- রাজ্যে পালাবদলের সাথে সাথেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক চলছে সাধারণ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ ও হেনস্তার অভিযোগ। দুর্নীতি, স্বজন, পোষণ ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপি নেতাকর্মীরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।

কিন্তু এবার খবর পাওয়া গেল প্রতিষ্ঠিত এক হাইকোর্টের আইনজীবীর অফিস ঘরে হামলা চালানোর অভিযোগ পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানা অন্তর্গত ভৈঠা গ্রাম থেকে। সুত্র মারফত জানা গেছে, গত ১৪ই জুন সকাল ৮ টা ১৫ নাগাদ মেমারি থানা অন্তর্গত ভৈঠা গ্রামের নিজের অফিস ঘরে দৈনন্দিন এর মতো কাজ করছিলেন হাইকোর্টের আইনজীবী সাহেব ব্যানার্জি। ঠিক সেই সময় স্থানীয় আনিরুল আনসারী নামক এক ব্যক্তি প্রায় ২০-৩০ জন দুষ্কৃতীকে নিয়ে সাহেব ব্যানার্জীর অফিসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

ঘটনা প্রসঙ্গে আইনজীবী সাহেব ব্যানার্জি জানান, “গত ১৪.০৬.২০২৬ তারিখে, তার এলাকার কিছু গুণ্ডা, যাদের হাতে কোনো পতাকা ছিল না কিন্তু তারা শাসক দল বিজেপির সদস্য, তার মক্কেল আনারুল আনসারীর পক্ষে একটি আদালত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপির জন্য অবৈধভাবে তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং গুন্ডামি শুরু করে। তার এলাকায় এমন অনেকেই আছে যারা অবৈধভাবে দেশি মদ তৈরি করে, যাদের বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় মন্ডল সভাপতি স্বগ্নিক সিকদার, কিশোর দে, রবিন ভট্টাচার্য, উত্তম দাস, টোটন গোনের সহায়তায় সমাজবিরোধী চক্রটি খুবই প্রভাবশালী। এই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা অবৈধ মদ প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে টাকা নেয় এবং তার কক্ষে পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়ে কিছু বইপত্র ও জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তার পেশায় হস্তক্ষেপ করছে এবং তার পেশাগত কাজে বাধা দিয়ে তাকে এলাকায় অপমানিত করার চেষ্টা করছে।”

এই ঘটনার পরেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় । হাইকোর্টের আইনজীবী সাহেব ব্যানার্জি ওইসব দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানাতে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আবেদন করেন।

এদিকে এই ঘটনার পরেই স্থানীয় এলাকার মানুষ ক্ষোবে ফেটে পড়েন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ যদি একজন প্রতিষ্ঠিত মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তার নিজের গ্রামের বাড়িতেই দুষ্কৃতিদের দ্বারা আক্রান্ত হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির পূর্ব বর্ধমান জেলার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা জানান, “কোনভাবেই আইনজীবীকে হেনস্থা করার ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে রাজনৈতিক ভাবে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।”

এখন দেখার, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও এভাবে একজন প্রতিষ্ঠিত মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী হেনস্তা করার বিরুদ্ধে পুলিশ কি ব্যবস্থা নেয়। এ বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক পুলিশ আধিকারিক প্রীতম বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে খুব শীগ্রই।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments