eaibanglai
Homeএই বাংলায়তাীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ডিবিটি লিংক করতে মহিলাদের লম্বা লাইন

তাীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে ডিবিটি লিংক করতে মহিলাদের লম্বা লাইন

সংবাদদাতা বাঁকুড়া:- একসময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের মন জয় করেছিল তৃণমূল সরকার। অনেকেরই দাবি মহিলা ভোটারদের কাছে টেনেই ভোটে জিতেছিল তৃণমূল সরকার। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দল রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে মহিলাদের ৩০০০টাকা ভাতা দেওয়া হবে। বিপুল ভোটে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর ক্ষমতায় এসেই প্রতিশ্রুতি পালনের উদ্য়োগ নিয়েছে নতুন সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যারা যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা পাচ্ছিলেন তারা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভাতা পাবে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে টাকা সরারসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। তবে তার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টি আধারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকলেও অনেকেরই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তি নেই আবার কারো তাকলেও সে জানে না সংযুক্ত রয়েছে কিনা। তাই ডিবিটি-র মাধ্যমে ভাতা পেতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসের সামনে ভিড় ও লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে মহিলাদের। বাদ নেই বাঁকুড়ার জেলাও।

বাঁকুড়া শহরের হেড পোস্ট অফিস চত্বরেও লম্বা লাইন ও ভিড়ের ছবি ধরা পড়েছে। এখানে ভোর পাঁচটা থেকে লম্বা লাইন পড়ছে মহিলাদের। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন ডিবিটি লিংক করাতে। প্রবল গরম ও দীর্ঘ লাইন সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পেতে সারাদিন অপেক্ষা করছেন মহিলারা। কারো কোলে দুধের শিশু, কোন বৃদ্ধা আবার আইক্রিম খেয়ে একটু গলা ভেজাচ্ছেন। কেউ এসেছেন কুড়ি কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ছাতনা থেকে, আবার কেউ এসেছেন গঙ্গাজলঘাটি থেকে।

গঙ্গাজলঘাটি থেকে আসা এক গৃহবধূ বলেন, “এই নিয়ে তিন দিন এলাম। প্রচুর মানুষের ভিড়। একটা যদি নোটিশ করে দেয় যে কতজনের হবে তাহলে সেরকম বুঝে আগেভাগে বাড়ি চলে যেতে পারব।” অপরদিকে ছাতনা থেকে নিজের বউ এবং বৌমাকে নিয়ে আসা গনেশ দেওঘরিয়া বলেন, “লাইন দিচ্ছি! ভোরবেলা থেকে দিয়েছি। আমার স্ত্রী এবং বৌমা আছে। এই প্রসেস যদি নিজের এলাকায় যদি আরও একটু স্বতঃস্ফূর্তভাবে হত খুব ভালো হত, আমরা তো অতটা বুঝিনা।”চোখে কালো চশমা পরা এক বৃদ্ধা অবার বললেন, “আমার এলাকায় হলে ভাল হত! সকাল থেকে লাইন দিয়েছি।”

সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে উৎসাহ থাকলেও পক্রিয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষত এই তীব্র দাবদাহে। গ্রামের সাধারণ মানুষ অনলাই বা এটিএম-এ গিয়ে ডিবিটি লিংক নিয়ে অতটো সচেতন নন। তাই তাদের এলাকায় এলাকায় যদি এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কোন পরিষেবার ব্যবস্থা করা হতো তাদলে হয়রানি অনেকটাই কম হতো বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments