সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গবাদি পশু কেনাবেচা বা হত্যা করা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যজুড়ে। অভিযোগ এই কড়া নির্দেশিকার জেরে বন্ধ হয়ে গেছে বহু পশু হাট। বিপাকে পড়েছেন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। এই অভিযোগে ও পশুহাট চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে সরব হলেন বাঁকুড়ার পশু কেনাবেচা ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ী তথা ‘পশু পক্ষী হাট বাঁচাও সমিতি’র সদস্যরা। এদিন প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সামনে এই বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এদিন দুপুরে বাঁকুড়া শহরের হিন্দু স্কুল মাঠ থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। মিছিলে শামিল হন হাটের সঙ্গে যুক্ত সর্বস্তরের মানুষ। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে তামলিবান্ধ এলাকায় অবস্থিত জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে দফতরের মূল গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পশু হাটগুলি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শুধু পশু ব্যবসায়ীরাই নন, হাটের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় ছোট দোকানদার, চা-মিষ্টির দোকান, হোটেল মালিক ও দিনমজুররা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। রুজি-রুটি হারিয়ে বহু পরিবার এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
এদিন বিক্ষোভের পর ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের আধিকারিকের কাছে তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। অবিলম্বে জেলার পশু হাটগুলি পুনরায় খোলার ব্যবস্থা না করা হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর এবং তীব্র আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রসঙ্গত রাজ্যে গরু পাচারের রাশ টানতেই পশু কেনাবেচা নিয়ে এই কড়া পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদি পশু কেনাবেচা বা হত্যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি বা তা কৃষিকাজ ও বংশবৃদ্ধির অনুপযুক্ত—এই মর্মে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ লিখিত শংসাপত্র থাকলে তবেই সেই পশু হত্যা করা যাবে। তবে কোনভাবেই উন্মুক্ত স্থানে পশু হত্যা করা যাবে না। সরকার স্বীকৃত কসাইখানাতেই কেবল পশু হত্যা করা যাবে। আইন অমান্য করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, কিংবা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।


















