সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অবশেষে কাটতে চলেছে দীর্ঘদিনের বালি-জট। জেলার নির্মাণ কাজের গতি ফেরাতে এবং বালির সংকট দূর করতে অবিলম্বে সমস্ত বৈধ বালিঘাটগুলি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার আসানসোলে জেলাশাসকের দপ্তরে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে প্রতি ট্রাক্টর বালির সর্বোচ্চ দাম ১,২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক এস পোন্নাবলম জানান, কোনো ঘাট মালিকই এই নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি দাম নিতে পারবেন না। বালি উত্তোলন ও পরিবহণে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পালাক্রমে আধিকারিক নিয়োগ করে কড়া নজরদারি চালানো হবে।
এদিনের বৈঠকে জেলাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুরের দুই বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক ও বালিঘাট মালিকরা। বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, জেলায় বালির সংকটের কারণে আবাসনসহ সমস্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে হস্তক্ষেপ করার পরেই জেলা প্রশাসন এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিনের বৈঠকের পর একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান জেলাশাসক। যেমন- বালি পরিবহণে যুক্ত ট্রাক্টরগুলির রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বিডিও এবং বিএলআরও-দের। অন্ডাল ব্লক, আসানসোল ও দুর্গাপুর পুরনিগম এলাকায় কোনো বৈধ বালিঘাট না থাকায় পরিবহণ খরচ বাড়ছে। এই সমস্যা মেটাতে নিয়ম শিথিল করে ঘাট থেকে ৫ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বেও 'বালি মজুত কেন্দ্র' বা স্টকইয়ার্ড তৈরি করা যায় কিনা, সে বিষয়ে ছাড়পত্র চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। আবাসন প্রকল্প, স্বচ্ছ ভারত মিশনসহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বালি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিডিও ও বিএলআরও-দের সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় ১৫টি বৈধ বালিঘাট চালু রয়েছে। এছাড়া আরও ১২টি নতুন ঘাট পরিবেশগত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বর্ষার মরশুম শেষ হলে চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এই নতুন ঘাটগুলি চালু হলে জেলার বালির যোগান ও বাজার দর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন।