সন্তোষ কুমার মণ্ডল,অন্ডালঃ- অন্ডালে ধস কবলিত গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বললে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে আশ্বাস।
২০২০ সালের ১৬ জুলাই পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল ব্লকের হরিশপুর গ্রামে আচমকাই ধসের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় কয়েকশো মানুষের জীবন। নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে গোটা গ্রাম। তারপর কেটে গিয়েছে পাঁচ বছর। এই সময়ে পুনর্বাসনের দাবিতে একাধিকবার রাস্তা অবরোধ, প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া থেকে শুরু করে ভোট বয়কটের মতো চরম সিদ্ধান্তও নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবুও আজও মেলেনি স্থায়ী পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা।
প্রসঙ্গত,হরিশপুর সহ ধসপ্রবণ একাধিক গ্রামের পুনর্বাসনের জন্য ইসিএল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বহুতল আবাসন নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটই এখন পুনর্বাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফ্ল্যাটগুলি অত্যন্ত ছোট, নির্মাণের গুণমানও নিম্নমানের। খোলা পরিবেশে বসবাসে অভ্যস্ত মানুষদের জন্য ওই আবাসন কোনওভাবেই উপযুক্ত নয়। তাই পুনর্বাসনের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ পরিবার সেখানে যেতে রাজি নন।
বৃহস্পতিবার সেই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা হিসেবে অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর সংলগ্ন পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকায় একটি কমিউনিটি হলে হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ , ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড ও আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরা ও ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
এদিন বৈঠকে গ্রামবাসীরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিমানবন্দর এলাকার ফ্ল্যাট নয়, তারা চান ইসিএলের পুনর্বাসন প্রকল্পের আদলে জমি সহ বসবাসযোগ্য বাড়ি। তাদের বক্তব্য, শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, জীবন-জীবিকা ও সামাজিক পরিবেশের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য শোনার পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইসিএল কর্তৃপক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। গ্রামের মানুষ খোলামেলা পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত। যে ধরনের ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, তা তাঁদের উপযুক্ত নয়। কিভাবে তাঁদের জন্য গ্রহণযোগ্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের আন্দোলনের পথ পেরিয়ে এ দিনের বৈঠক নতুন করে আশার আলো দেখালেও পুণর্বাসন নিয়ে সংশয় এখনও কাটেনি বলে দাবি গ্রামবাসীদের। তাঁদের বক্তব্য মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু যতক্ষণ না বাস্তবে গ্রহণযোগ্য পুনর্বাসন হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।