সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- শনিবার সকালে আসানসোলের বিএনআর মোড়ের কাছে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন ৩৭ বছর বয়সি এক ব্যাংককর্মী। আহত যুবকের নাম অমিত প্রসাদ। তিনি আসানসোলের ইসমাইল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনাটি এতটাই তীব্র ছিল যে, মোটরসাইকেল আরোহী অমিতবাবু ঘাতক গাড়িটির নিচে আটকে পড়েন। তবে মাথায় হেলমেট থাকার কারণে এক নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবারের মতো শনিবার সকালেও অমিত প্রসাদ নিজের মোটরসাইকেলে চেপে ডিউটির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বিএনআর মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছাতেই একটি চারচাকা গাড়ির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি জোরালো সংঘর্ষ হয়। যার ফলে অমিতবাবু মোটরসাইকেলসহ গাড়িটির নিচে আটকে পড়েন।
দুর্ঘটনাটি নজরে আসতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। তাঁরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে গাড়িটির নিচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অমিত প্রসাদকে বের করে আনেন এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত ব্যাংককর্মী দুর্ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পেলেও তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, অমিতবাবুর মাথায় হেলমেটটি সঠিক নিয়মে পরা ছিল বলেই আজ তাঁর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। গাড়ির চাকা ওপর দিয়ে উঠে গেলেও হেলমেটটি মাথায়থাকায় বড় কোনো আঘাত লাগেনি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "যদি ওই ব্যাংককর্মীর মাথায় হেলমেট না থাকত, তবে এই দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারত।"
এই দুর্ঘটনা ফের একবার আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের চালকদের সচেতনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। একই সঙ্গে দুই চাকার যান চালকদের জন্য হেলমেট পরা যে কতটা জরুরি ও জীবনদায়ী, এদিনের ঘটনা আরও একবার তা প্রমাণ করল।