নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- উৎসবের দিনে যখন গোটা রাজ্য রাখি বন্ধনের আনন্দে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই এক অনন্য মানবিক নজির গড়লেন শিল্পশহরের এক গৃহবধূ। সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন, খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো আস্তানাহীন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে রাখি উৎসব পালন করলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা মৌসুমী ঘোষ। চলতি বর্ষার মরশুমে মশার কামড় ও ডেঙ্গুর মতো মারণ রোগের হাত থেকে ফুটপাতবাসীদের রক্ষা করতে তাঁদের হাতে রাখির পাশাপাশি তুলে দিলেন নতুন মশারি।
বরাবরই সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করার এক তীব্র তাগিদ অনুভব করেন মৌসুমীদেবী। যখনই সুযোগ পান, নিজের সাধ্যমতো হাত বাড়িয়ে দেন তাঁদের দিকে। এবার রাখি পূর্ণিমার পবিত্র পুণ্যতিথিতে বোনদের ভাইফোঁটা বা রাখি পরানোর চেনা ছবির বাইরে গিয়ে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে আশ্রয়হীন, ভবঘুরে মানুষদের হাতে তিনি পরম স্নেহে রাখি পরিয়ে দেন এবং ভালোবাসার বন্ধনে তাঁদের আগলে রাখার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে তাঁদের উপহার দেন মশারি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মৌসুমীদেবী নিজে কোনো চাকরি বা ব্যবসা করেন না। এই মহতি কাজের জন্য তিনি কারও কাছ থেকে কোনো দান বা চাদাও সংগ্রহ করেননি। তবে কীভাবে জোগাড় হলো এতগুলি মশারির টাকা? এই বিষয়ে মৌসুমী ঘোষ জানান, রাখি বন্ধন উৎসবে প্রথা মেনে নিজের ভাইদের রাখি পরিয়ে তাঁদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে কিছু টাকা পেয়েছিলেন তিনি। নিজের জন্য সেই টাকা খরচ না করে, তা জমিয়ে সমাজের এই প্রান্তিক মানুষদের জন্য মশারি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। ভাইদের দেওয়া ভালোবাসার উপহারের টাকাই আজ অন্য বেশকিছু মানুষের জীবনের রক্ষাকবচ হয়ে উঠল।
কোনো রকম সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্তরে মৌসুমীদেবীর এই সুন্দর ও মহতি উদ্যোগ স্বভাবতই দুর্গাপুরজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বর্তমানের আত্মকেন্দ্রিক সমাজে দাঁড়িয়ে কোনো চকমকি প্রচার ছাড়াই নিজের উৎসবের আনন্দকে যেভাবে তিনি ফুটপাতের অসহায় মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন, তা এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।