সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ (কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিম বর্ধমান জেলার সদর শহর আসানসোল। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় শহরে আয়োজিত হলো একটি বিশাল ও বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা র্যালি। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়।
এদিন আসানসোলের রবীন্দ্র ভবন চত্বর থেকে এই বর্ণাঢ্য র্যালিটি শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন এবং তেরঙা পতাকায় সেজে ওঠে গোটা পথ। র্যালির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ২০০ ফুট দীর্ঘ বিশাল জাতীয় পতাকা। সেই পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় পা মেলান একাধিক স্কুলের ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ, সরকারি আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম, আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার বা সিপি ডাঃ প্রণব কুমার, তিন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, অরিজিৎ রায় ও পার্থ ঘোষ।
র্যালির পাশাপাশি এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের দফতর চত্বরে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেরঙা রঙে তৈরি একটি বিশাল ও মনোমুগ্ধকর রঙোলি। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙের মেলবন্ধনে তৈরি এই শৈল্পিক রঙোলির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, অখণ্ডতা এবং বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়। সরকারি দফতরে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কর্মীরা—সবাই এই নজরকাড়া রঙোলি দেখতে ভিড় জমান। অনেকেই এই সুন্দর মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দী করেন।
জেলাশাসক জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মনে দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করানো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসানসোল তথা সমগ্র পশ্চিম বর্ধমান জেলার সাধারণ মানুষকে আগামী স্বাধীনতা দিবসে নিজ নিজ গৃহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানে সক্রিয়ভাবে শামিল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।