এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

জিএসটি আদায়ে বাড়ল রাজস্ব, তবে জাতীয় গড়ের চেয়ে গতিতে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলা

By Eaibanglai - October 01, 2026
— Advertisement —
Advertisement
জিএসটি আদায়ে বাড়ল রাজস্ব, তবে জাতীয় গড়ের চেয়ে গতিতে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলা

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- উৎসবের মরসুমের মুখে রাজ্যের জিএসটি আদায় বাড়লেও, রাজস্ব সংগ্রহের বৃদ্ধির গতিতে জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। সেখানে সামগ্রিকভাবে সারা দেশে অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায় বৃদ্ধির গড় হার ১০ শতাংশ। অর্থাৎ, জাতীয় বৃদ্ধির হারের চেয়ে ৪ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে বাংলা।

কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায় হয়েছিল ৫,২২৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তা ৩২০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৫,৫৪৯ কোটি টাকা। শতাংশের বিচারে এই বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যগুলির তুলনায় বাংলার এই কর সংগ্রহের গতি যথেষ্ট মন্থর।

সেপ্টেম্বর মাসের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশের একাধিক বড় ও প্রতিবেশী রাজ্য জিএসটি আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলার চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে। অসম, জিএসটি আদায় বৃদ্ধির হার রেকর্ড ৮৮ শতাংশ, গুজরাত ১৭ শতাংশ, মহারাষ্ট্র বৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ।

শুধু রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায়ই নয়, সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতেও কর সংগ্রহের গতি বৃদ্ধির বড় ইঙ্গিত মিলছে। সেপ্টেম্বরে দেশের মোট গ্রস জিএসটি সংগ্রহ ১৪.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকায়। ফলে জাতীয় স্তরে কর আদায়ের ক্ষেত্রে যে জোরালো প্রবণতা তৈরি হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তার প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে বেশ কম।

এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই অর্থনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, দেশের জিএসটি আদায় যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গে এই গতি এত কম কেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, রাজ্যের বাজার, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের সঙ্গে জিএসটি আদায়ের সরাসরি যোগ রয়েছে। ফলে রাজ্যের জিএসটি বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের নীচে থাকা রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, কেবল মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে একটি রাজ্যের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। উৎসবের মরসুমের কেনাকাটা ও ব্যবসার ওপর ভর করে আগামী কয়েক মাসের জিএসটি আদায়ের ধারাবাহিক তথ্য সামনে এলেই স্পষ্ট হবে যে, সেপ্টেম্বরের এই কম বৃদ্ধির হার সাময়িক মন্থরতা, নাকি রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি কোনও বড় সংকটের ইঙ্গিত।


— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement