সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। বিভিন্ন সামাজিক মহল থেকেও উঠছে প্রতিবাদের ঝড়। এই পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোল নামল রাজ্যের বিজেপি সরকার। বুধবার প্রথমে বিধানসভায় এবং পরে নবান্নে উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠক করে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার প্রথমে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত বিধায়কের সেবাকেন্দ্রের নাম হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’। পাশাপাশি প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে সরবরাহ করা নেতাজির পরিবারের অনুমোদিত ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির প্রতিকৃতি বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে। এই দুই শর্ত পূরণ করলেই সংশ্লিষ্ট বিধায়ক সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। বিষয়টি পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশনে সংশোধনী এনে কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর ও সরকারি স্কুলে নেতাজির পরিবারের অনুমোদিত প্রতিকৃতি বাধ্যতামূলকভাবে টাঙানোর বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সেই ছবি প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেবে।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে নেতাজিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে। ডিজিপি, সাইবার শাখা, সিআইডি, এসটিএফ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে যৌথভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু পোস্টদাতা নয়, লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী নাম উল্লেখ না করেই বলেন, আইন সবার জন্য সমান। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, সরকারি কর্মী বা পুলিশ— যে-ই হোন না কেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ ও ‘দেশদ্রোহী’ বলে তীব্র আক্রমণ করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা নিয়ে তাঁর এই আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং কলকাতার শ্যামবাজারে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেন। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অনন্ত মহারাজের মন্তব্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ প্রশমন এবং বিজেপির বাঙালি-আবেগ ধরে রাখতেই এই জোড়া কৌশল নেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে।