নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- চলতি বছরেই মহাসমারোহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির উপস্থিতিতে উদ্বোধন হয়েছিল দুর্গাপুর মহকুমা নতুন আদালত ভবনের। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেখানে কেন বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি চালু করা গেল না এবং পুরনো আদালতের নথিপত্র বা রেকর্ড স্থানান্তরে কেন এত বিলম্ব—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেই বিতর্কের মধ্যে নতুন এক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে আইনজীবীদের মধ্যে। পুরনো আদালতের রেকর্ড স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিলেন দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী এবং বিচার বিভাগীয় কর্মীরা।
বুধবার নতুন মহকুমা আদালত ভবনের সামনে বিক্ষোভে সরব হন আইনজীবীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন এজলাসের ভেতরেই আইনজীবীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় স্বয়ং বিচারককে।
বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার হঠাৎ করেই উচ্চ স্তরের একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, পুরনো মহকুমা আদালতে থাকা সমস্ত নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড অবিলম্বে নতুন আদালত ভবনে স্থানান্তর করতে হবে। অথচ বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এর আগে প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, আসন্ন পুজোর ছুটির আগে রেকর্ড স্থানান্তর করা হবে না। বিক্ষোভরত আইনজীবীদের অভিযোগ নতুন ভবনে কাজ শুরু করার জন্য এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হয়নি। আইনজীবীদের বসার জায়গা, শৌচালয় সহ একাধিক পরিকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি। তার আগেই নথি স্থানান্তরের করে নতুন ভবনে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
এই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দুর্গাপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জীব কুণ্ডু বলেন, “যাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে বিচারপ্রার্থী হিসেবে এই আদালতে আসেন, তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং দপ্তরের সমস্ত স্তরের কর্মীদের অভাব-অভিযোগের কথা চিন্তা করে আমরা প্রশাসনের কাছে একাধিক যৌক্তিক প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই প্রস্তাবগুলির একটিও কার্যকর করা হয়নি। তার মধ্যেই কোনওরকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া, তড়িঘড়ি করে মাঝপথে এই রেকর্ড স্থানান্তরের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা আমরা মেনে নেব না।”
বিক্ষোভকারী আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের উত্থাপিত পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং বিক্ষোভ লাগাতার চলবে।