সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- মাঝরাতে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে (NH-19) পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল রানীগঞ্জে । একদিকে চলন্ত চারচাকা গাড়িতে আগুন এবং অন্যদিকে তৈলাক্ত কেমিক্যাল বোঝাই ট্যাঙ্কার উল্টে গিয়ে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে পড়ল জাতীয় সড়ক।
রাত তখন আনুমানিক ১২:৪৫ মিনিট। কলকাতা থেকে ধানবাদের অভিমুখে যাচ্ছিল একটি ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়ি। রানীগঞ্জের রানীসায়ের মোড়ে পৌঁছাতেই আচমকা গাড়িটিতে দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। গাড়ির ভেতরে থাকা তিনজন আরোহী আগুনের আঁচ টের পেয়ে কালবিলম্ব না করে চলন্ত গাড়ি থেকেই ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ। খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অল্পের জন্য তিন আরোহীর প্রাণ বাঁচলেও, গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রথম দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় সড়কের চুনাভাটি এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। হলদিয়া থেকে হিমাচল প্রদেশগামী একটি বিশালাকার তৈলাক্ত রাসায়নিক ভর্তি ট্রেলার-ট্যাঙ্কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা রাস্তার ওপর উল্টে যায়। তৈলাক্ত কেমিক্যাল জাতীয় সড়কের এক বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে পুরো রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যেকোনো বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে তৎক্ষণাৎ ওই লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দ্রুত এলাকার পৌঁছয় এবং দুর্ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে। এরপর দুটি বিশাল ক্রেন দিয়ে উল্টে যাওয়া ভারী ট্যাঙ্কারটিকে রাস্তা থেকে সরানো হয়। পাশাপাশি, দমকলের গাড়ির সাহায্যে পুরো রাস্তা ধুয়ে কেমিক্যালের তৈলাক্ত আস্তরণ পরিষ্কার করা হয়। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় রাস্তা পুনরায় নিরাপদ করার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।