নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল-সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সদ্ভাবনা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো। এই বিশেষ দিনটি উদ্যাপনে বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ দিন সকালে দুর্গাপুর স্টিল সিটি রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল সোসাইটির উদ্যোগে দুর্গাপুর মহিলা কলেজ সংলগ্ন গোলাই মোড়ে অবস্থিত রাজীব গান্ধীর পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মূর্তিতে মাল্যদান এবং পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে এ দিনের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী, সুধেব রায়, রবিন গঙ্গোপাধ্যায়-সহ সংগঠনের পদাধিকারী, বিভিন্ন সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার ছোট ছোট শিশুরা।
এ দিন সকালে দুর্গাপুর স্টিল সিটি রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল সোসাইটির উদ্যোগে দুর্গাপুর মহিলা কলেজ সংলগ্ন গোলাই মোড়ে অবস্থিত রাজীব গান্ধীর মূর্তিতে মাল্যদান করে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মূর্তিতে মাল্যদান এবং পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে এ দিনের মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী, সুধেব রায়, রবিন গঙ্গোপাধ্যায়-সহ সংগঠনের পদাধিকারী, বিভিন্ন সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার ছোট ছোট শিশুরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোসাইটির সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী আধুনিক ভারত গঠনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক অবদানের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আধুনিক ভারতের গঠনে রাজীব গান্ধীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের সূচনা এবং প্রসারে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। টেলিকম ক্ষেত্রের উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিক্স’ বা সি-ডট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও তাঁর সময়েই নেওয়া হয়।”
দেবেশ চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, যুব সমাজকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি করে যুক্ত করতে ভোটদানের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করার ক্ষেত্রে রাজীব গান্ধী সরকারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং গ্রামীণ এলাকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উন্নত শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ‘জওহর নবোদয় বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও ছিল তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। একই সঙ্গে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় অসম, পাঞ্জাব ও মিজোরামের মতো সমস্যাসঙ্কুল রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। বক্তব্যের শেষে তিনি গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এক মর্মান্তিক বোমা বিস্ফোরণে এই জননেতার অকাল মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তীকালে দেশমাতৃকার প্রতি তাঁর এই চরম আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারত রত্ন’-এ (মরণোত্তর) সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও রাজীব গান্ধীর কর্মজীবন ও আদর্শের কথা স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর চিন্তাধারা ও দেশ গঠনের স্বপ্ন পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন। শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে সদ্ভাবনা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এ দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।