এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

ডিজিটাল সাউন্ডের যুগেও ব্যতিক্রম: নহবতের সাবেকি সুরে আজও গৌরবাজারে মায়ের আগমন বার্তা

By Eaibanglai - October 10, 2026
— Advertisement —
Advertisement
ডিজিটাল সাউন্ডের যুগেও ব্যতিক্রম: নহবতের সাবেকি সুরে আজও গৌরবাজারে মায়ের আগমন বার্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ-  শিউলির গন্ধ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যির মাঝেই উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার গ্রামে কান পাতলে শোনা যায় এক মায়াবী সুর। মাইকের তীব্র শব্দ কিংবা আধুনিক ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমের কানফাটানো ঝলকানি নয়, নহবতের সানাইয়ের সাবেকি সুরেই আজও উমার আগমন বার্তা পৌঁছে যায় এই প্রাচীন গ্রামে। আধুনিকতার জোয়ারে বাংলার মাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন বাদ্যধারা যখন বিলুপ্তপ্রায়, ঠিক তখন গৌরবাজার গ্রামের দুর্গাপুজোয় তা অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে টিকে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরবাজার গ্রামের এই পূজায় উৎসবের দিনগুলিতে ভোর ও সন্ধ্যায় নিয়ম করে বসে নহবতের আসর। মহালয়ার আবহ পেরিয়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী—মায়ের আরাধনার প্রতিটি দিনেই গোটা গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সেই ঐতিহ্যবাহী সুর। আর সেই সুরের মূর্ছনার সঙ্গে মিশে থাকে গ্রামের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি, আবেগ এবং বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক লোকসংস্কৃতি।

সময়ের নিয়মে বদলেছে পুজোর ধরন, বদলেছে মানুষের জীবনযাপন। পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আধুনিক ডিজে বা হাই-ভোল্টেজ সাউন্ড বক্স। কিন্তু গৌরবাজার গ্রামের বাসিন্দারা এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তাঁদের এই পুরনো ঐতিহ্যকে। পূর্ণচন্দ্র বাদ্যকর এবং তাঁর সম্প্রদায়ের শিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে চলেছেন নহবতের এই সুর-উত্তরাধিকার। নহবতের প্রতিটি রাগ-রাগিনী যেন অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক নিবিড় সেতুবন্ধন।

পুজোর দিনগুলিতে ভোরের আবছা আলো কিংবা সন্ধ্যার নরম অন্ধকারে যখন নহবতের সুর আকাশে-বাতাসে ভেসে আসে, তখন গ্রামের প্রবীণ থেকে নবীন—সবারই মনে হয় সময়ের কাঁটা যেন কয়েক দশক পিছিয়ে গিয়েছে। মায়ের আগমনের আনন্দ থেকে শুরু করে দশমীর বিদায়ের করুণ সুর—সবটাই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে পূর্ণচন্দ্র বাবুর সানাইয়ের ফুঙ্কারে। আধুনিক জৌলুসের জাঁকজমককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গৌরবাজার গ্রাম প্রমাণ করে দিল, আজও বাংলার সাবেকি পুজো আর লোকঐতিহ্যের আবেদন কতখানি গভীর।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement