নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে মানসিক ও শারীরিকভাবে সবল যুবসমাজকে নিয়ে। তারাই বয়ে নিয়ে চলে আগামীর জয়ধ্বজা। আর তার জন্য প্রয়োজন শিশুদের খেলাধুলো ও শরীরচর্চার উন্মুক্ত মাঠ, যাতে সুস্থ-সবলভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ পায় আগামী প্রজন্ম। কিন্তু বর্তমানে শহর থেকে শহরতলি, এমনকি গ্রামাঞ্চলকেও গ্রাস করছে বালি, সিমেন্ট আর কংক্রিটের জঙ্গল। যা গিলে খাচ্ছে ছোট-বড় খোলা খেলার মাঠ। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের খয়রাশোল এলাকায় একটি খেলার মাঠ রক্ষা করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এলাকার একটি বহু পুরনো খেলার মাঠ দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এর প্রতিবাদে এদিন তাঁরা মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার শিশু-কিশোররা সেখানে খেলাধুলো করে এবং প্রবীণরাও সময় কাটান। এখন ওই জমিতে নির্মাণকাজ হলে এলাকার মানুষের চূড়ান্ত সমস্যা হবে। তাই জমিটির বর্তমান রেকর্ড ও মালিকানা খতিয়ে দেখে প্রশাসন উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিক, দাবি এলাকাবাসীর।
এলাকার বাসিন্দা সমীর কুমার শ্যাম বলেন, "দাদুদের আমল থেকে এই মাঠে আমরা খেলাধুলো করে আসছি। এখন জমি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। মাঠটি চলে গেলে আমরা কোথায় যাব, আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় খেলবে? তাই আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাতে এসেছি।"
যদিও অপর পক্ষের তরুণ কুমার দাস দাবি করেছেন, ওই মাঠের জমিটি সরকারি রেকর্ডে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। জমিটি তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি এবং এর বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড সমস্ত কিছুই তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, "তা সত্ত্বেও এলাকার কিছু মানুষ জোর করে জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে দখল করে রাখার চেষ্টা করছেন। জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রশাসনের কাছে পেশ করা যেতে পারে। ফলে সরকারি রেকর্ড ও বৈধ নথি খতিয়ে দেখেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।"
যদিও ওই জমিকে দীর্ঘদিনের খেলার মাঠ বলে দাবি করে তা রক্ষার দাবিতে অনড় এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ।