নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- মোবাইল ও ডিজিটাল পর্দার আসক্তি থেকে শৈশবকে মুক্ত করে রূপকথার অরণ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অভিনব উদ্যোগ নিল দুর্গাপুরের আকবর রোডের ইয়ং ব্যাচ ক্লাব। নোবেলজয়ী ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের কালজয়ী কাহিনি ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর থিমে এবার সেজে উঠেছে তাদের গণেশ পুজোর প্যাণ্ডেল, যা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন আট থেকে আশি।
মণ্ডপে পা রাখলেই শহরের কোলাহল ভুলে দর্শনার্থীরা পৌঁছে যাচ্ছেন মোগলির সেই রহস্যময় এডভেঞ্চারের দুনিয়ায়। গাছপালা ও কৃত্রিম বন্য পরিবেশের মাঝে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মোগলি, ভালুক বালু, কালো চিতাবাঘ বাঘিরা, চতুর অজগর কা এবং ভয়ংকর বাঘ শের খানের মতো জনপ্রিয় সব চরিত্র। বন্ধুত্ব, সাহস ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের বার্তা দেওয়া এই কালজয়ী গল্পকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। এই অভিনব মণ্ডপকে ঘিরে শুধু শিশুদের মধ্যেই নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা।

পুজো কমিটির সম্পাদক সুব্রত লায়েক জানান, এই বছর তাদের গণেশ পূজা অষ্টম বছরে পদার্পণ করল। ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই আকর্ষণীয় থিম। তিনি বলেন, "আমাদের গণেশ পূজায় নতুন প্রজন্ম সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে। বর্তমানের শিশুরা মোবাইলে বড্ড বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের সেই ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বের করে শৈশবের অনাবিল আনন্দ ফিরিয়ে দিতেই এবার ‘জঙ্গল বুক’ থিম বেছে নেওয়া হয়েছে।"
শহরের বুকে এক টুকরো অরণ্যের স্বাদ পেতে এবং মোগলির দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে এই মণ্ডপটি উৎসবের দিনগুলিতে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।