এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

খনির ডুলিতে ১৩ ঘণ্টা আটকে ১২ শ্রমিক, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ভোরে নিরাপদে উদ্ধার

By Eaibanglai - October 27, 2026
— Advertisement —
Advertisement
খনির ডুলিতে ১৩ ঘণ্টা আটকে ১২ শ্রমিক, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ভোরে নিরাপদে উদ্ধার

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের ইসিএল -এর কুমারডিহি কোলিয়ারিতে এক ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে খনির ভিতরে প্রায় ১৩ ঘণ্টা আটকে থাকলেন ১২ জন খনি শ্রমিক । সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘটা এই বিপত্তির জেরে খনি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ায়। জানা গিয়েছে, খনির ভিতরে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ডুলিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় মাটি থেকে প্রায় ১৫০ ফুট নীচে তা আটকে যায় [। আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে ৪ জন কাজ শেষে নিচে থেকে উপরে উঠলেও বাকি ৮ জন নিচে কাজ করছিলেন। সোমবার বিকেল থেকে শুরু করে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত তাঁরা খনির অন্ধকারেই অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন।

রাতভর প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের দল আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও প্রাথমিকভাবে ড্রামের লোহার রশি ফেঁসে যাওয়ার কারণে ১২ জনকে উদ্ধার করা যায়নি । অবশেষে ভোরের আলো ফুটতেই উদ্ধারকাজে বিশেষ গতি আনা হয়। ইসিএল-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশেষজ্ঞ দলের যৌথ প্রচেষ্টায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ড্রাম মেরামত করা সম্ভব হয় এবং মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ সমস্ত খনি শ্রমিককে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয় । খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ১২ জন শ্রমিকই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন । উদ্ধারের পরই তাঁদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

অন্যিদকে ঘটনার খবর পেয়েই সোমবার রাতে কুমারডিহি কোলিয়ারিতে ছুটে যান পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন । বিধায়ক জানান, রাতেই বিশেষ উপায়ে সুড়ঙ্গের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য খাবার এবং পানীয় জল পাঠানো সম্ভব হয়েছিল এবং তাঁরা ভিতর থেকে সাড়াও দিচ্ছিলেন। উদ্ধারকাজ শেষে বিধায়ক বলেন, “কাদের গাফিলতির কারণে এমন বিপজ্জনক ঘটনা ঘটল, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখবে।"

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সহকর্মী শ্রমিকদের অভিযোগ, কুমারডিহি কোলিয়ারিতে মাঝেমধ্যেই ডুলি নিয়ে নানা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। কখনও লিফট আটকে যায়, আবার কখনও ডুলির দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি হয় । বারবার এ ধরনের বিপত্তি ঘটলেও খনি কর্তৃপক্ষ কেন স্থায়ী কোনো রক্ষণাবেক্ষণ বা সমাধানের পথ খুঁজছে না, তা নিয়ে শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement