এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

শিল্পাঞ্চলে পার্কিং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

By Eaibanglai - October 16, 2026
— Advertisement —
Advertisement
শিল্পাঞ্চলে পার্কিং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য,  প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:-  বাঙালির গৌরব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সনাতনী ভাবধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব, যাকে শারদীয়া নামেও অনেকে জেনে এসেছেন বহুকাল।  দুর্গোৎসবের পূর্ণ লগ্নে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর তথা রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিগ বাজেটের একাধিক পুজোর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী এক বর্ণাঢ্যময় আনন্দের ও উৎসাহের মিলনক্ষেত্রে হিসেবে হয়ে ওঠে।  উৎসবের আনন্দে শামিল হতে মণ্ডপে মণ্ডপে ঢল নামে দর্শনার্থীদের। কিন্তু এই আনন্দোৎসবের আবহেই "প্রদীপের তলায় অন্ধকার" প্রবাদটি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হচ্ছে বিগ বাজেটের একাধিক পুজো প্রাঙ্গণের পার্কিং এলাকাগুলিতে। অভিযোগ, মণ্ডপের চারপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী পার্কিং জোনগুলিতে দর্শনার্থীদের যানবাহনের সুরক্ষা দেওয়ার নামে এক শ্রেণির অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীদের যানবাহনের সুরক্ষা দেওয়ার নামে কোথাও ৩০ টাকা, আবার কোথাও ৫০ টাকা বা তারও বেশি টাকা জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের একাংশের।

সন্ধ্যায় শিল্পাঞ্চলে পুজোর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই অবরুদ্ধ করা হয়  জনবহুল মুখ্য রাস্তাগুলি। সাধারণ মানুষের দুই চাকা যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। আগাম নির্দেশিকা ও প্রচার না থাকার ফলে সন্ধ্যায় দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাজারে বের হওয়া ও দুর্গোৎসবের জন্য কেনা কাটার জন্য স্থানীয় বাজার গুলিতে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেকেই বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি, মণ্ডপের আশেপাশের অলিতেগলিতে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী পার্কিং এলাকাগুলিতে দর্শনার্থীদের হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠছে।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী পাণ্ডবেশ্বর এলাকা থেকে শিল্পাঞ্চলের বিগ বাজেটের প্রতিমা দর্শন করতে আসা জনৈক্য রবি লোচন হেমব্রম অভিযোগ করেন, "সীমিত সামর্থ্য থাকার ফলে পরিবারের লোকজনদের নিয়ে মোটর সাইকেলে দুর্গাপুরে ঠাকুর দেখতে এসে প্রতিটি বড় প্যান্ডেলের বাইরে পার্কিং কর্মীরা একপ্রকার জোর জবরদস্তি পার্কিং ফ্রি বাবদ কোথাও ৩০ টাকা কোথাও ৫০ টাকা আদায় করছেন। দিতে অস্বীকার করলে পরিবারের লোকজনদের সামনেই কুরুচিকর মন্তব্য করছে ওইসব পার্কিং মাফিয়াদের পোষা গুন্ডারা।"

একইভাবে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া থেকে আসা চন্দনা চ্যাটার্জি এদিন আক্ষেপের সুরে বলেন, "দুর্গাপুর নাকি শিক্ষিত মানুষের শহর! কিন্তু  বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা কীভাবে উৎসবের দিনগুলিতে পার্কিং ব্যবস্থা অসাধু ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিলেন? তারা কি একবারও দেখেছেন না যে আগত দর্শনার্থীদের সাথে ওইসব পার্কিং মাফিয়াদের পোষা গুন্ডা বাহিনী কি ব্যবহার করছে ?"  তিনি আরো বলেন, "লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে পূজা মন্ডপ তৈরি করছেন ও সাধারণ মানুষকে তাদের পূজা মণ্ডপ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন আর সামান্য ফ্রি পার্কিং ব্যবস্থা করার সৌজন্যতা নেই ?  নাকি সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে 'তোলা' তোলার নতুন নিয়মের নাম হল 'পার্কিং' ।

সূত্র মারফত জানা গেছে, বিগ বাজেটের প্রায় প্রতিটি পুজো উদ্যোক্তারা টেন্ডার ভিত্তিতে পুজো মণ্ডপের আশেপাশের ফাঁকা এলাকাগুলিকে দুই চাকা ও চার চাকা যানবাহনের জন্য পার্কিং জোন করার অনুমতি দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে বেশ কিছু পুজো উদ্যোক্তারা মোটা টাকার বিনিময় নাকি সাময়িক চুক্তিভিত্তিতে ওই পার্কিং গুলি তুলে দিয়েছেন বেশ কিছু গোষ্ঠী ও সংস্থার হাতে। কিন্তু প্রশ্ন হল পুজো উদ্যোক্তারা কি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পার্কিং ফি বাবদ টাকা আদায় করা বা তোলার অনুমতি নিয়েছেন? যদি অনুমতি নেওয়া থাকে তাহলে পার্কিং ফি বাবদ যে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় হচ্ছে তার হিসেব কোথায় জমা করা হচ্ছে ? বহু বিগ বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারাই কোথাও রাজ্য সরকার আবার কোথাও কেন্দ্রীয় সরকারের জায়গা দখল করে পুজো মণ্ডপের চারি পাশে অবৈধ পার্কিং করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু কার অনুমতিতে? প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

অন্যদিকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট দুর্গাপুর তথা শিল্পাঞ্চল আসানসোলের সমস্ত পুজো কমিটি গুলিকে একত্রিত করে দুর্গা পুজো প্রস্তুতি বিষয়ক সভা করেছেন দুই শহরেই আলাদা আলাদা করে। সেই প্রস্তুতি সভা থেকে পুলিশের উচ্চ আধিকারিকরা  এবারের দুর্গাপুজো কমিটি গুলিকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন,  কোনভাবেই দুই চাকার জন্য ১০ টাক ও চার চাকার জন্য ২০ টাকার বেশি পার্কিং চার্জ নেওয়া যাওয়া না।  কিন্তু সেই আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারের নাকের ডগায় এক দল পার্কিং মাফিয়া বুক ফুলিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার ও জুলুমবাজি করে মোটা টাকা পার্কিং ফি বাবদ আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এদিকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দুর্গাপুজো দর্শন করতে আসা দর্শনার্থীদেরকে সবরকমের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য শহরের মোতায়ন রয়েছে কয়েকশো পুলিশকর্মী, যারা দিনরাত কর্মরত। ফলে দ্বিতীয়ার দিন থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ভয়ে এবং সুরক্ষিত ভাবে প্রতিমা দর্শন করার সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এই কড়া নজরদারি সত্ত্বেও তথা কথিত পার্কিং মাফিয়াদের পোষা গুন্ডাদের হাতে তাদের দুর্ব্যবহার ও জুলুমবাজির শিকার হতে হচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ করছেন দর্শনার্থীদের একাংশ।

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক শিল্পাঞ্চলের এক স্থানীয় বিরোধী দলের নেতা বলেন, "ভাবতেও অবাক লাগে যে সকল পুজো মণ্ডপ গুলির চারিপাশে আজ সাধারণ মানুষকে রীতিমতো জুলুমবাজির শিকার হতে হচ্ছে, সেখানেই বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটা করে পুজো উদ্বোধন করতে আসছেন।"

রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারংবার সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার ও জুলুমবাজি  করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন।  কিন্তু শহর দুর্গাপুরের বড় বড় পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং নিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা ও জুলুমবাজির শিকার হতে হলেও কোন এক অজানা কারণে কোনরকম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ শহরবাসীর একাংশের।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement