সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এলাকায় রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি চোলাই মদ তৈরির কারবার। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানার পুলিশের এক বিশাল টিম বড়সড় অভিযানে নামল। ইন্দপুর ব্লকের গৌরবাজার অঞ্চলের রামনগর গ্রামের জিয়ারদা ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই তৈরির সরঞ্জাম ও মদ বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্টের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই তাকে খাতড়া মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। জঙ্গল ঘেরা ওই গোপন ডেরা থেকে প্রায় ১০ লিটার চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি চোলাই মদ তৈরির জন্য মজুত করে রাখা ৪৫০ লিটার গাঁজানো রস (ওয়াশ), ৪০০ গ্রাম ইস্ট, ৫টি বড় অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি, পাতন যন্ত্র এবং প্রচুর পরিমাণ চিটাগুড় সহ অন্যান্য কাঁচামাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জাম ও ওয়াশ ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেয় পুলিশ বাহিনী।
দীর্ঘদিন ধরে রামনগর ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় এই বেআইনি মদের ঠেক ও কারখানাগুলি চলছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। চোলাই মদের এই রমরমা কারবারের কারণে এলাকায় পারিবারিক অশান্তি, মারামারি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি লেগেই থাকত। সস্তায় মেলায় এলাকার বহু দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ এই মারাত্মক নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছিলেন, যার ফলে বহু পরিবারে চরম আর্থিক অনটন ও সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসছিল।
এদিনের এই বিশেষ যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইন্দপুর থানার ওসিশ্রীমন্ত চক্রবর্তী। অভিযানে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বনদফতরের আধিকারিক ও কর্মীরাও শামিল ছিলেন। জঙ্গল ও দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে যাতে আর কেউ এই কারবার চালাতে না পারে, তার জন্য এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইন্দপুর থানার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে চোলাইয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান আগামীদিনেও লাগাতার জারি থাকবে।