এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

আর্থিক সংকটে ঐতিহাসিক রানিগঞ্জ কোলফিল্ড, ৭৭টির মধ্যে ৫৭টি খনিই লোকসানে

By Eaibanglai - September 04, 2026
— Advertisement —
Advertisement
আর্থিক সংকটে ঐতিহাসিক রানিগঞ্জ কোলফিল্ড, ৭৭টির মধ্যে ৫৭টি খনিই লোকসানে

সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- ভারতের কয়লা খনির ইতিহাসের সূচনা যে মাটির হাত ধরে, সেই ঐতিহ্যবাহী রানিগঞ্জ কোলফিল্ড বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের অন্তর্গত রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের অধিকাংশ খনিই এখন বড়সড় লোকসানের মুখে। সম্প্রতি ইসিএল-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদিক বৈঠকে এই উদ্বেগের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর সতীশ ঝা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানিগঞ্জ কোলফিল্ডের মোট ৭৭টি খনির মধ্যে বর্তমানে ৫৭টি খনি লোকসানে চলছে। বিপরীতে, লাভজনক অবস্থায় রয়েছে মাত্র ২০টি খনি।

১৭৭৪ সালে এই রানিগঞ্জ এলাকাতেই ব্রিটিশ আমলে ভারতে প্রথম কয়লা খনন শিল্পের পথচলা শুরু হয়েছিল। আড়াইশো বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী কয়লাক্ষেত্রটির এমন বেহাল আর্থিক দশা দেশের খনি শিল্প মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত খনিগুলির আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামোগত পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে একাধিক খনিকে একত্রিত  করা সত্ত্বেও লোকসানের গ্রাফ নামানো যাচ্ছে না। উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, প্রাচীন কার্যপদ্ধতি এবং পরিচালনাগত জটিলতাই এই ধারাবাহিক লোকসানের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ইসিএল-এর সিএমডি সতীশ ঝা জানান, খনিগুলির ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলেও ভূগর্ভস্থ  খনিগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো ঐতিহ্যবাহী খনিগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিক সংক্রান্ত স্থায়ী খরচ  উৎপাদন আয়ের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত বেশি, যা সামগ্রিক লাভ-ক্ষতির খতিয়ানকে নেতিবাচক করে তুলছে। বর্তমানে এই ৫৭টি অলাভজনক খনির পরিচালনা সচল রাখাই কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রানিগঞ্জের কয়লা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ—যার মধ্যে রয়েছে খনি শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্মী এবং সাধারণ বাসিন্দা। এই বিপুল সংখ্যক খনি লোকসানে চলায় স্বভাবতই কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়া এবং ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় খনি বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের অর্থনীতিও অনেকাংশে কোলফিল্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোলফিল্ডের এই সংকট শুধু ইসিএল কর্তৃপক্ষের নয়, বরং গোটা রানিগঞ্জ-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের জন্য একটি বড় অশনি সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement