Lifestyle এই বাংলায়

দ্বিতীয়া থেকেই দৈবীশক্তির প্রকাশ! নবরাত্রির তাৎপর্য জানেন?

By Eaibanglai - October 12, 2026
— Advertisement —
Advertisement
দ্বিতীয়া থেকেই দৈবীশক্তির প্রকাশ! নবরাত্রির তাৎপর্য জানেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক (সঙ্গীতা চৌধুরী, বহরমপুর):- গতকাল থেকে শুরু হয়েছে নবরাত্রি। প্রথমা, দ্বিতীয়া থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত সময় কালকে নবরাত্রি বলা হয়। অনেকেই এই নবরাত্রীর মাহাত্ম্য জানেন না। এই নবরাত্রির মাহাত্ম্য বোঝাতেই আজকে আমার এই বিশেষ প্রতিবেদন।

নবরাত্রি হল সাধনার নয়টি স্তর। মহালয়ার পরদিন থেকে নবরাত্রি শুরু হয়। এক এক দিনে দেবীর এক এক রূপ পূজিত হয়। আমরা প্রত্যেকেই নবরাত্রির নয় দেবীর কথা জানি, কিন্তু আমরা জানি না দেবীর এক একটি রূপের অর্থ… নবরাত্রি অর্থাৎ হল সাধকের জীবনের একদম শূন্য দশা থেকে আসতে আসতে ভক্তি এবং সাধনার পথে চরম উত্তরণ। আজ দ্বিতীয়ার দিন  জেনে নেব দেবীর নয় রূপের অর্থ ও সাধনার নয়টি রূপ।

স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ এই নয় রূপের কথা ভালো মতো ব্যাখ্যা করেছিলেন।

প্রতিপদ বা প্রথমার দিন শৈলপুত্রী পূজিতা হন। শৈলপুত্রী অর্থাৎ পাহাড়ের কন্যা, এইরূপ পুজো করার অর্থ হলো, জড় পাহাড়ের ভেতরে থাকা অসীম রত্ন ভান্ডার। অর্থাৎ এটি সাধনার প্রথম স্তর। সাধনার প্রথম স্তরে সাধক তামসিক বা জড় জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হন কিন্তু তার অভ্যন্তরে থাকে অসীম সম্ভাবনা। 

দ্বিতীয়ার দিন পূজিতা হন ব্রহ্মচারিনী। ব্রহ্মচারিণী অর্থে বোঝানো হচ্ছে যে সাধনার দ্বিতীয় স্তর অর্থাৎ যখন সাধক তামসিক অবস্থা থেকে ঈশ্বর চিন্তার দিকে ব্যাপৃত হয়।

তৃতীয়া অর্থাৎ চন্দ্র ঘন্টার পূজার দিন। এই দিন মায়ের মাথায় থাকে চাঁদ, হাতে থাকে ঘন্টা। এই স্তরে সাধক উজ্জ্বলজ্যোতি দর্শন ও দিব্য শব্দ অনুভব করতে পারে। অর্থাৎ দিব্য অনুভূতি প্রাপ্ত হয় সাধক।


চতুর্থীতে পূজিতা হন দেবী কুষ্মান্ডা। কু অর্থাৎ খারাপ, উষ্ম অর্থাৎ গরম, অন্ড অর্থাৎ পেট। অর্থাৎ  কু মানে কষ্ট সহ্য করে উষ্ম মানে অসহ্যকে যিনি খেয়ে ফেলেন, তিনি হলেন দেবী কুষ্মান্ডা। সাধনার এই চতুর্থ স্তরে সাধক বুঝতে পারেন দিব্য শক্তির  সাহায্য তিনি পাচ্ছেন।


পঞ্চমী অর্থাৎ স্কন্দ মাতা , যিনি কার্তিকের মা, যিনি শক্তি দাত্রী, সৃষ্টির আদি শক্তি। এই স্তরে পৌঁছে সাধক অনুভব করেন তিনি নিজেই চেতন শক্তির অন্তর্গত। অর্থাৎ দেহ ও মনকে অতিক্রম করে নিজের অস্তিত্বের গভীর চেতনার মধ্যে তিনি প্রবেশ করেন। দেহ বোধ তার চলে যায়, মনের চিন্তা ও আবেগ হয় শান্ত। সাধক উপলব্ধি করেন দেহ ও মন হলো সেই দুই সত্তা যা এতদিন ধরে তার চেতনাকে ঢেকে দিয়েছিল।

ষষ্ঠীর দিন পূজিত হন দেবী কাত্যায়নী। কাত্যায়ন ঋষি মা দুর্গাকে নিজের কন্যারূপে সাধনা করেছিলেন,তাই মা তাকে কন্যা রূপে দর্শন দেন। কাত্য অর্থাৎ ব্রহ্ম জ্ঞানী , অয়ন অর্থাৎ পথ। 
সাধনার এই স্তরে সাধক বুঝতে পারেন, দুর্গা কে? কীভাবে লোক কল্যাণ করতে হবে , এটা যিনি ব্রহ্ম জ্ঞানীদের বলেন তিনি হলেন মা দুর্গা অর্থাৎ মা দুর্গাই ব্রহ্মজ্ঞানীদের জ্ঞান প্রদান করেন।

এই স্তরে সাধককে যথেষ্ট সংযত থাকতে হয়, এই স্তরে সাধক তার অর্জিত শক্তির অপপ্রয়োগ না করে যাতে দিব্য সত্তার নির্দেশ অনুযায়ী চলেন তারই চেষ্টা করে সে। যদি সেই চেষ্টাতে সে ব্যর্থ হয় তাহলে সাধকের পতন নিশ্চিত। অর্থাৎ সপ্তম স্তরে সে আর উত্তীর্ণ হতে পারে না।


সপ্তমীতে কালরাত্রি পূজিতা হন, কালরাত্রি অর্থাৎ ঘন কৃষ্ণ বর্ণ নিয়ে মা আবির্ভূতা হন।সাধনার এই সপ্তম স্তরে সাধকের কাছে সর্বশূন্য অনুভব হয়। অর্থাৎ সাধক বুঝতে পারেন এতকাল তিনি যে অসংখ্য জন্ম নিয়েছেন সেই জন্ম  আসলেই অন্ধকারের মধ্যে থাকা। বিজ্ঞানের ভাষায় এই চেতনাকে বলা হয়, সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যেন পরিণত হয়েছে বিশাল সর্বগ্রাসী এক ব্ল্যাক হোলে।

অষ্টমীতে মহাগৌরী। অর্থাৎ মা এখানে সর্বব্যাপী আলোর রূপ নিয়ে আবির্ভূতা হচ্ছেন। সাধনার একপর্যায়ে গিয়ে  কালী রূপে মা  সাধককে পরীক্ষা করবেন, ঈশ্বরের জন্য সে কি সমস্ত আকর্ষণ কে ত্যাগ করতে পারবে? সাধক যদি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় , তাহলে মা তাকে মহা গৌরীর রূপ দেখাবেন, অর্থাৎ মা অসীম ঐশ্বর্য নিয়ে তার সামনে উপস্থিত হবেন।

নবমী তিথি হল সাধনার সর্বোচ্চ স্তর। এই তিথিতে মা সাধককে সিদ্ধি প্রদান করেন, তাই নবমী তিথিতে পূজিতা হন দেবী সিদ্ধিদাত্রী। সাধক এতকাল ধরে শক্তির নানান রকম রূপ কে অনুভব করেছেন, এইবার তিনি দেবীকে বা শক্তির আসল রূপকে অনুভব করবেন।

সহজ ভাবে বলা যায় এতদিন সাধক সাগরের ছোট ছোট ঢেউ দেখেছেন এবার তিনি সাগরকে প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন।  সাধকের এই দর্শন সর্বোত্তম।

স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ এভাবেই দেবীর নয় রূপের নয় সাধনার স্তরের কথা ব্যাখ্যা করেছিলেন। সাধনার এই স্তর প্রত্যক্ষ করলে বোঝা যায় যে দ্বিতীয়া তিথি থেকেই সাধকের সাধনার পথে যাত্রা শুরু আর নবমী তিথিতে তার সাধনার সিদ্ধি… এ কারণেই নবরাত্রীকে শক্তির চরম স্ফূরণ বলা হয়।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement