সন্তোষ কুমার মণ্ডল, বুদবুদঃ- চিকিৎসায় গাফিলতিতে ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতাল। মৃত রোগীর আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত নার্স ও মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘরে ঢুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার দাবিতে হাসপাতালের মূল গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
জানা গেছে, শনিবার রাতে মানকরের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী বুধন বাউড়ি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি কোনার জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা ওই প্রৌঢ়ের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন এবং তাঁকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন জানালে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেই তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল।
অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই বুধন বাউড়ির মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়াতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা। ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যু হয়েছে— এই অভিযোগ তুলে রাতেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চড়াও হন বেশ কিছু মানুষ।
উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মূল্যবান ওষুধপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে শুরু করে। তাণ্ডবের মুখে পড়ে প্রাণভয়ে হাসপাতালের নার্স ও মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। অভিযোগ, হামলাকারীরা সেই ঘরের দরজা লাথি মেরে ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং মহিলা কর্মীদের মারধর করে।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে এই হামলার প্রতিবাদে এবং কর্মক্ষেত্রে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের মূল গেটের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, প্রশাসন যতক্ষণ না তাঁদের লিখিত আশ্বাস এবং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ এই বিক্ষোভ অবস্থান চলবে। তবে মানবিকতার খাতিরে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।