এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- গ্রামবাংলায় পঞ্চায়েত কর বৃদ্ধি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জল্পনা ও সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তির অবসান ঘটাল রাজ্য সরকার। গ্রামীণ এলাকায় পরিবারপিছু পঞ্চায়েত কর বাড়িয়ে বার্ষিক ১,২০০ টাকা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে যে দাবি প্রচারিত হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো, অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।
দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩’-এ কর সংক্রান্ত যে সমস্ত নিয়ম ও বিধান এতদিন কার্যকর ছিল, সেগুলিতে কোনও ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে পূর্বের নিয়ম মেনেই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে কর আদায় প্রক্রিয়া সচল থাকবে এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের উপর অতিরিক্ত করের কোনও নতুন বোঝা চাপানো হচ্ছে না।
পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে অভিযোগ, একটি বিশেষ কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভুল তথ্য বাজারে ছড়িয়ে গ্রামীণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি কর বৃদ্ধির দাবি বা জোরজুলুম করে, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে। একই সাথে নাগরিকদের এই ধরনের কোনও মিথ্যা প্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর ভরসা রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
দফতরের পক্ষ থেকে মূল বিভ্রান্তির উৎসটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রামীণ পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব রাজস্ব আদায় খতিয়ে দেখতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে একাংশ প্রচার করতে শুরু করে যে সর্বনিম্ন করের হার ১,২০০ টাকা করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই রাজ্যজুড়ে বিভ্রান্তি এড়াতে ওই বিতর্কিত নির্দেশিকা বা এসওপি পুরোপুরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগ।
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বক্তব্য, ভবিষ্যতে গ্রামীণ কর কাঠামো সংক্রান্ত নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বা কোনও অতিরিক্ত নির্দেশিকার প্রয়োজন হলে, তা যথাসময়ে সরকারি স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আপাতত রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে আগের নিয়ম বহাল রেখেই স্বাভাবিক কর আদায় ও প্রশাসনিক কাজকর্ম চালনা করা হবে।