eaibanglai
Homeএই বাংলায়এক কিশোরের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার গল্প "কিশলয়"

এক কিশোরের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার গল্প “কিশলয়”

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- শুক্রবার রাজ্যজুড়ে মুক্তি পেল দাদা সাহেব ফালকে সহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ২৬টি পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলা ছবি “কিশলয়”। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সোনাচাঁদ সামন্ত। ছবিতে শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন দুর্গাপুরের অন্ডালের ছেলে সন্দীপ চক্রবর্তী। প্রযোজনার দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। কিশলয়ের গল্প শিক্ষা, মানবতা ও আশার গল্প। মূলত শিশুদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিয়ে সমাজকে বার্তা দিয়েছে এই ছবি। শিশুদের জায়গা স্কুলে,তাদের হাতে থাকার কথা কলম,বোঝা নয়, এটাই বার বার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছবির গল্প প্রান্তিক গ্রামবাংলার এক কিশোর কিশলয়কে নিয়ে, তাঁর বেচে থাকা লড়াইকে নিয়ে। নামের মতোই কচি, কিন্তু পরিস্থিতির চাপে নানান প্রতিকূলতার শিকার সে। বাবাকে হারানোর পর সংসারের হাল ধরতে হয় কিশলয়কেই। অসুস্থ মা, ছোট বোন সব দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। গ্রামের স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে মাঠে কাজ, কখনও বাজারে ছোটখাটো রোজগার। এই সময়েই গ্রামের বুকে নেমে আসে তথাকথিত ‘উন্নয়নের’ খাঁড়া। বড় শিল্পপ্রকল্পের নামে জমি অধিগ্রহণের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের কৃষক ও আদিবাসীদের হাতে। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে নীরবতা নামে গ্রামে। প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কিন্তু ছোট্ট কিশলয় আত্মসম্মান আর ন্যায়বোধের সঙ্গে আপস করতে রাজি নয়। সে প্রশ্ন তোলে উন্নয়ন কার জন্য? কিশলয়ের এই প্রতিবাদ প্রথমে হাসি-ঠাট্টায় উড়িয়ে দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে তার সততা আর যুক্তির জোরে গ্রামবাসীর মন জয় করে। সংগঠিত হতে শুরু করে মানুষ। শুরু হয় সভা, আলোচনা, স্বাক্ষর সংগ্রহ। কিন্তু যতই কিশলয় এগোয়, ততই বাড়ে বাধা। প্রভাবশালীদের হুমকি, বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা, এমনকি মায়ের অসুস্থতা সব মিলিয়ে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি। তবু দমে না কিশলয়। আইনের পথ বেছে নিয়ে সে পৌঁছয় প্রশাসনের দরজায়। সংবাদমাধ্যমের নজর পড়ে এই লড়াই। গ্রামের নিরীহ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে কিশলয়। শেষমেশ চাপের মুখে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। উন্নয়ন হয়, কিন্তু মানুষের অধিকার বজায় রেখেই।

সিনেমার শেষ দৃশ্যে এক নতুন সকাল। গ্রামের নতুন স্কুলের উদ্বোধন। ক্যামেরার ফ্রেমে কিশলয় এখন সেই স্কুলের শিক্ষক। কচি পাতা কিশলয় ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে এক দৃঢ় বৃক্ষ। আর আজ ছোট ছোট চারা গাছেরা সেই বৃক্ষের ছায়ায় ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে।

এই ছবিতে মূলত থিয়েটারের শিল্পীরা অভিনয় করেছেন যা ছবিতে এনেছে বাস্তবতার ছাপ ও গভীরতা।

কিশলয়ের গল্প শুধু একটি সিনেমা নয়, এ এক সময়োপযোগী সামাজিক দলিল। উন্নয়ন আর অধিকারের দ্বন্দ্বে এক কিশোরের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের জেগে ওঠার প্রাণবন্ত কাহিনী। প্রযোজক ও অভিনেতা সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন,”এই সিনেমা বাচ্চাদের নিয়ে দেখা দরকার। যে কাহিনী মানুষের চেতনা জাগাবে। শিশুদের মনকেও উজ্জীবিত করবে। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে চেতনা জেগে ওঠে। সেই চেতনাই একজন মানুষকে মানুষ গড়ে তোলে। তাই শিশু শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এই ছবিটা দেখে যদি একজন মানুষও সচেতন হন, সেটাই ছবির সার্থকতা।”

রাজ্যের একাধিক সিনেমা হলের পাশাপাশি দুর্গাপুরের ডিসি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ছোটদের সঙ্গে নিয়ে দেখার জন্য একটি উপযুক্ত পারিবারিক ছবি “কিশলয়”।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments