বিশেষ সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- গত ২৬শে ফেব্রুয়ারী, গভর্নমেন্ট ITI রানীবান্ধ-বাঁকুড়ার প্রেক্ষাগৃহে, ববি চক্রবর্তীর ৪৮২তম বিশ্বব্যাপী, বিনামূল্যের আসক্তি বিরোধী অভিযানে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আশ্বস্তকারী কিছু মুহূর্ত দেখা গেল, যখন সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেডের ছাত্রছাত্রীরা বা তার ‘সৈনিকরা’ আবেগপ্রবণ হয়ে সমন্বিত কান্নায় ভেঙে পড়ল তথা তাদের ভুল স্বীকার করে ববির সাথে হাত মেলাল এবং একসাথে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে,তাদের ‘কমান্ডার’কে আসক্তির সমস্ত অন্ধকার (ধূমপান, মদ্যপান, স্মার্ট ফোন) এবং ক্ষতিকারক সামাজিক প্রবণতা (অপমানজনক ভাষা, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অনলাইন অশ্লীলতা,গেমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া, র্যাগিং, বুলিং ইত্যাদি) যা এই সমাজের অশুভ শক্তি,যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য প্রদান করে, তার থেকে দূরে,একটি সুস্থ ও উজ্জ্বল জীবনযাপন করার প্রতিশ্রুতি দিল |
সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ কলেজ ব্যবস্থাপনা, অধ্যক্ষ সৌম্য চট্টোপাধ্যায়, ইভেন্ট কোঅর্ডিনেটর শুভদীপ মণ্ডল এবং উপস্থিত প্রতিটি প্রশিক্ষক, ববির এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন তাতে তারা অভিভূত।
২০২৫ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি আইটিআই-তে অনুষ্ঠিত এই ধারাবাহিক প্রচারণার সবচেয়ে শক্তিশালী সৈনিক হলেন গতিশীল প্রকল্প প্রধান অঞ্জন বিশ্বাস, যার কার্যকরী দূরদর্শীতায়, তার সমস্ত কলেজ এবং কলকাতার একজন প্রখ্যাত অভিনেতা/সমাজকর্মী/অভিনয় প্রশিক্ষক ববির মধ্যে এই ফলপ্রসূ মেলবন্ধন ঘটেছে, যিনি গত দুই দশক ধরে এই কঠিন লড়াই করে আসছেন।
এই মনোমুগ্ধকর অধিবেশনের অফিসিয়াল আলোকচিত্রী ছিলেন সক্রিয় এবং সদাচারী সৈনিক গোবিন্দ দাস (ফিটার), যাকে ‘দ্য বেস্ট ফ্রেন্ড’, সোলজার বুলেট সূত্রধর (ফিটার) সহায়তা করেছিলেন। বুলেট ববিকে বাঁকুড়ার বিশেষত্ব, দেবী দুর্গার একটি সুন্দর নিজ হাতে তৈরি মুখোশ উপহার দেন।
মনরঙ্জক সামাজিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কার্যকলাপের মাধ্যমে অন্যান্য সৈনিকদের যে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক উপাধি প্রদান করা হয় তা হল ‘দ্য ফার্স্ট সোলজার’ – জয়দীপ চ্যাটার্জী (ইলেকট্রিশিয়ান) এবং ‘দ্য ট্রেন্ডসেটার’ – রণজিৎ পাল (ওয়েল্ডার)। সমাপনী কুইজ প্রতিযোগিতায় জয়ী সৈনিকরা হলেন জয়দীপ, সায়ন্তন দাস (ইলেকট্রিশিয়ান) এবং তপজ্যোতি মাহাতা (ইলেকট্রিশিয়ান), যাদের গোবিন্দের সাথে বিশেষ পুরস্কার, কাস্টমাইজড সোলজার টি-শার্ট এবং ববি কর্তৃক কমিউনিটি সার্ভিস সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘আমি আমার মনের রাজা’,যা একজন সৈনিকের মন্ত্রের প্রতিধ্বনি, তাদের কলেজে এই অত্যন্ত ফলপ্রসূ অধিবেশন শেষ হওয়ার অনেক পরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোনা যায়।


















