eaibanglai
Homeএই বাংলায়কয়লা চুরির দাবিতে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর! ব্যাপক উত্তেজনা চুরুলিয়ায়

কয়লা চুরির দাবিতে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর! ব্যাপক উত্তেজনা চুরুলিয়ায়

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- খনি থেকে অবৈধ কয়লা উত্তোলনের দাবিতে তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর! এমনই এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলের জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায়। ঘটনায় খনি আধিকারিক ও তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাইক ও গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামাতে হয় কমব্যাট ফোর্স ও র‍্যাফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গত বুধবার চুরুলিয়ার ওই খেলামুখ খনি থেকে কয়লা চুরি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ এরপরই বৃহস্পতিবার কয়লা চুরির সঙ্গে জড়িতদের একাংশ কয়লাখনি থেকে কয়লা চুরি করতে দিতে হবে বলে দাবি জানিয়ে চুরুলিয়ার হাটতলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং যথেচ্ছ ভাঙচুর করে।

হামলাকারীদের হাতে আক্রান্ত হন এক খনি আধিকারিক। ভাঙচুর করা হয় ওই আধিকারিকের গাড়ি সহ আরও বেশ কয়েকটি বাইক। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তৃণমূল কংগ্রেসের চুরুলিয়া অঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসরফ। সবমিলিয়ে এই ঘটনায় ৭ জন জখম হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রথমে হামলার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যায় চুরুলিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে জামুড়িয়া থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী, সঙ্গে কমব্যাট ফোর্স ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর বেশ কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা পুলিশ বাহিনী।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক দলের অভিযোগ এই ঘটনার পেছনে বিরোধী দল বিজেপি ও সিপিএমের ইন্ধন রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী বিজেপির দাবি এদিনের ঘটনা প্রমান করে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় অবৈধ কয়লা কারবার।

তৃণমূল কংগ্রেসের চুরুলিয়ার অঞ্চল সভাপতি ব্রজনারায়ণ রায় বলেন,”এইসব করে বিরোধী দলগুলি আমাদের দলের বদনাম করার চেষ্টা করছে।” অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এটাই হওয়ার ছিলো। দুধেল গাইদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। কয়লা চুরি করতে দিতে হবে বলে, তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস থেকে কয়লা চুরি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। বাংলার মানুষেরা সব দেখছেন ও বুঝতে পারছেন।”

এদিকে স্বাভাবিক ভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে চুরুলিয়ার মতো জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নেতা আক্রান্ত হওয়ায় ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments