eaibanglai
Homeএই বাংলায়প্লাস্টিক মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করবে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান...

প্লাস্টিক মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করবে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- জুটের সামগ্রী তৈরি ও ব্যাবহারের ওপর জোর দিতে যৌথভাবে কাজ করবে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। বুদবুদে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এমনই প্রস্তাব উঠে এল।

উল্লেখ্য পূর্ব ও পশ্চিম দুই বর্ধমান জেলায় রয়েছে কৃষি ও শিল্পের সহবস্থান। পূর্ব বর্ধমান যেমন শস্যগোলা তেমনই পশ্চিম বর্ধমানে রয়েছে খনি ও শিল্পাঞ্চল । এই দুই বর্ধমানে বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষাবাদ ও কৃষির সমস্যা দুর করা ও কৃষি উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কাজ করে। সেখানে উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছে, রাজ্য সরকারের দুই জেলার কৃষি, উদ্যান পালন, পশুপালন ও মৎস্য বিভাগের আধিকারিকরা। বৃহঃস্পতিবার ছিল ওই উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। এদিন রাজ্য সরকারের দুই জেলার ওইসব দফতরের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর ও ক্রাইজাফ (সিআরআইএএফ) ডিরেক্টর ডঃ গৌরাঙ্গ কর ও ভর্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন আটারির ডিরেক্টর ডঃ প্রদীপ দে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডঃ সিএস কর, ডঃ আজিজুর রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ক্রমেই প্লাস্টিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে পৃথিবী জুড়ে। প্ল্যাস্টিক বর্জ্য গ্রাস করছে পরিবেশকে। প্লাস্টিক একটি ‘নন বায়োডিগ্রেডেবল’ দ্রব্য। অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপায়ে তাকে ধ্বংস করা অসম্ভব। তার কারণেই যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, তা মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে না। বিপদ ঘটাচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের। আর এই দূষণ ভুগর্ভস্ত জলস্তর বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া প্লাস্টিক পোড়ালে তা থেকে ডাই অক্সিন, ফিউরান ও স্টাইরিনের মতো বিষাক্ত ভারী গ্যাস তৈরি হয়। সেগুলি খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে দিয়ে আমাদের দেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে। অনেক সময় প্লাস্টিক না পুড়িয়ে জলাশয়, নদী, সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। তার ফলাফল হয় আরও ভয়ানক। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র এতে ভয়াবহ ভাবেক্ষতিগ্রস্ত হয়। নানা সামুদ্রিক প্রাণী ভুল করে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে এবং তাতে তাদের মৃত্যু ঘটে।

সম্প্রতি স্বচ্ছ ভারত মিশন গ্রামীন প্রকল্পে প্ল্যাস্টিক বর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আর তাতে জুট বা পাটের তৈরি সামগ্রী উৎপাদন ও ব্যবহারের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। এদিনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচার রিসার্চ(আইসিএআর) ও ক্রাইজাফ (সিআরআইএএফ) র ডাইরেক্টর ডঃ গৌরাঙ্গ কর বলেন,” প্লাস্টিক একটি ‘নন বায়োডিগ্রেডেবল’ দ্রব্য। প্লাস্টিক মাটি দুষনের অন্যতম কারন এবং ভুগর্ভে জল সংরক্ষনে বড় বাধা প্লাস্টিক। তাই দেশকে, সমাজকে প্লাস্টিক মুক্ত করতে হবে। তারজন্য জুটের তৈরি সামগ্রি যেমন ব্যাগ ব্যাবহার করা দরকার। কারন জুট বায়োডিগ্রিবল। জুটের তৈরি সামগ্রী ব্যাবহার করলে যেমন পাট চাষে চাষীদের মুনাফা বাড়বে। তেমনই জুটের ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি করে মহিলার স্বনির্ভরতার আশা দেখবে। মহিলাদের জুটের সামগ্রী তৈরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্যারাকপুরে করা হয়েছে। সেখানে তপশীলি জাতি ও জনজাতি মহিলাদের নিখরচায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রায় ৬৪ রকমের ব্যাগ তৈরি হয়। আরও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি হয়। হাতে কলমে শেখানোর জন্য মেশিনও আছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা গ্রুপ তৈরি করে সেখানে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। পরবর্তী কালে নিজেরা জুটের ব্যাগ তৈরি করে কিভাবে অনলাইন বাজারজাত করবেন, তারও প্রশিক্ষণ ব্যাবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতবর্ষে ও অন্যান্য দেশে জুটের ব্যাগে ও জুটের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে।”

বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের পাশাপাশি এদিন কেন্দ্রীয় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে তপশীলি জাতি, উপজাতিদের বিভিন্ন ধান, তৈল, পাট, ডাল বীজ দেওয়া হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments