সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোল ও দুর্গাপুরঃ– আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জিনক্ষণ ঘোষণা হয়েই আগেই (রবিবার)। এরপরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। সোমবারই রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ১৪৪টিতে ও সিপিএম ১৯২টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার ৯ বিধানসভায় ৬টি আসনে পুরনোদের উপরই ভরসা রেখেছেন দলীয় নেতৃত্ব। অন্যদিকে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ৩ টি আসনে।
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসানসোল উত্তরের বিধায়ক মলয় ঘটকের হাত থেকে আইন দপ্তর নিয়ে নিজের কাছে রাখেন। যা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন মলয় ঘটকের অনুগামীরা। কিন্তু প্রার্থী নাম ঘোষণার পর দেখা গেল এবারও তার উপরই ভরসা রেখেছেন নেত্রী। আসানসোল উত্তরে ফের প্রার্থী করা হয়েছে তাকে। রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়কে তার পুরনো কেন্দ্র আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যাশা মতোই পান্ডবেশ্বর থেকে এবারেও দলের টিকিট পেলেন তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। অন্যদিকে জামুড়িয়া থেকে দলের প্রার্থী হিসেবে এবারেও টিকিট পেলেন হরেরাম সিং। বারাবনি বিধানসভাতেও পুরনো মুখ তথা আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের উপরই ফের ভরসা রেখেছে দল।
অন্যদিকে নতুনদের মধ্যে চমক রয়েছে আসানসোলের কুলটি ও দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভায়। কুলটি বিধানসভা থেকে মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই তথা আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র ও দলের আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি অভিজিৎ ঘটককে প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসনটি বিজেপির হাত থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য অভিজিৎ ঘটককের উপর ভরসা রেখেছেন নেত্রী। একইভাবে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নতুন মুখ আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)এর চেয়ারম্যান দুর্গাপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কবি দত্তকে। এছাড়া রানিগঞ্জেও নতুন মুখ দলীয় নেতা কালোবরণ মণ্ডলকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হওয়ার পরে মোটামুটি পাকা হয়ে গেছে যে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার নয়টি বিধানসভায় কাদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। আসানসোল উত্তরে ২১ র মতো লড়াই হবে মলয় ঘটকের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের। এই কেন্দ্রে বামেদের তরফে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। আসানসোল দক্ষিণে আপাততঃ লড়াইয়ে রইলেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল, তৃণমূলের তাপস বন্দোপাধ্যায় ও সিপিএমের শিল্পী চক্রবর্তী। কুলটিতে লড়াই হবে বিজেপির ডাঃ অজয় পোদ্দার ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভিজিৎ ঘটকের মধ্যে। কুলটিতে বামফ্রন্টের মনোনীত ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হয়েছেন ভবানী আচার্য। বারাবনিতে কাদের মধ্যে লড়াই হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তার কারণ এই কেন্দ্রে বিজেপি ও বামফ্রন্ট এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। জামুড়িয়াতেও লড়াইয়ে ছবিটা মোটামুটি পরিষ্কার। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের হরেরাম সিংয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকছেন বিজেপির বিজন মুখোপাধ্যায় ও সিপিএমের মহঃ সাব্বির আলম। রানিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের কালোবরণ মণ্ডলের সঙ্গে কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন নারায়ণ বাউরি। বিজেপির তরফে এই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা বাকি রয়েছে। অন্যদিকে,এবারেও পান্ডবেশ্বরে সম্মুখ সমরে তৃণমূলের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও বিজেপির জিতেন্দ্র তেওয়ারি। পান্ডবেশ্বরে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন প্রবীর মন্ডল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই পান্ডবেশ্বর এই জেলার অন্যতম হট সিট।
এদিকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দুর্গাপুর পূর্বে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বিপক্ষে রয়েছেন বিজেপির চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় ও সিপিএমের সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়। দুর্গাপুর পশ্চিমে লড়াই হবে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন প্রার্থী কবি দত্ত ও বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের মধ্যে। এই কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন প্রভাষ সাঁই।
এছাড়া এসইউসিআই-ও ইতিমধ্যেই এই জেলার নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে তাদের দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। আসানসোল উত্তরে কল্লোল রায়, আসানসোল দক্ষিণে অনুপ ভট্টাচার্য, বারাবনিতে দেবস্বর বেশরা, পান্ডবেশ্বরে দোনা গোস্বামী, দুর্গাপুর পূর্বে কিরণময়ী মন্ডল ও দুর্গাপুর পশ্চিমে সোমনাথ বন্দোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে।



















