সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রানিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের প্রচারে উপস্থিতি হয়ে দূর্নীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে রাজ্যের শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে এবার কয়লা অঞ্চলেও পদ্ম ফুটবে বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রানিগঞ্জে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ” বিজয় সংকল্প সভা”য় অংশ নিতে অন্ডালে কাজি নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রেখাদেবী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিজেপির একাধিক নেতা ও কর্মী। ফুলের তোড়া দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য।
অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা চলে যান রানিগঞ্জে শিশুবাগান এলাকায় রাধা এ্যাপার্টমেন্ট সংলগ্ন ময়দানে। সেখানে বিজয় সংকল্প সভায় উপস্থিতি হয়েই প্রথমে তাকে রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করা হবে। বাংলার সম্পদের উপর বাংলার মানুষদের একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই এই অধিকার নিশ্চিত করা হবে”।
এছাড়াও, রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ” রাজ্যের বর্তমান সরকারের এখানকার মানুষের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই। এই কারণে এখানে মেয়েদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ যখন হয়, তখন কিন্তু এখানকার পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এখানকার প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েই চিন্তা করেন। কিন্তু ৪ মে’র পর এই ধারা বন্ধ হবে। তারপর বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। বিজেপি সরকার এলে নারী সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মহিলাদের বাসে যাতায়াতের জন্য কোনো ভাড়া দিতে হবে না।”
মহিলাদের সুরক্ষার পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদ নিয়েও সরব হতে শোনা যায় তাকে। তিনি বলেন, “এটা বাংলার মাটি। যেখানে মানুষ দেবী দুর্গার ভক্ত। প্রতিটি উৎসব মহা ধুমধাম করে পালন করা হয়। এই ঐতিহ্য যদি বজায় রাখতে হয়। আপনারা যদি নির্ভয়ে আপনাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে চান, তাহলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা খুব জরুরি।”
শেষে তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, “বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দুর্নীতিবাজ লোক জেলে যাবে।”
উল্লেখ্য, বাংলায় ভোটের আর হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। জোর কদমের চলছে প্রচার। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে দিল্লি থেকে বার বার আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি এবার প্রচারে উপস্থিত হলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীও। এখন দিল্লির এই হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা রাজ্যের মানুষের মন জয় করতে কতটা সফল হন তা জানা যাবে আগামী ৪ মে, নির্বাচনের ফলাফলে।
















