নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের কাঁকসা ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন স্থানীয়রা। অভিযোগ প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের তহবিলের টাকায় তৈরি সৌরশক্তি চালিত লাইটের খরচ দেখানো হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির খাতে। এমনই ঘটনা সামনে এসেছে কাঁকসার গোপালপুর এলাকার। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সম্প্রতি কাঁকসার গোপালপুরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় সৌরশক্তি চালিত হাইমাস্ট লাইটে লাগানো সরকারি ফলকটি রাতের অন্ধকারে বদলে ফেলা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জানা গিয়েছে, গোপালপুর পশ্চিম পাড়ায় ২০২৪- ২৫ অর্থবর্ষে সৌরশক্তি চালিত লাইট বসানোর সময় সেখানে বিজেপি সাংসদের তহবিলের বোর্ড লাগানো ছিল। সেখানে লেখা ছিল সুবিন্দর সিং, আলুওয়ালিয়ার তহবিল থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ব্যয় করে এই লাইট বসানো হলো। কিন্তু বর্তমান ফলকে দেখানো হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের পঞ্চম এসএফসি (স্টেট ফিনান্স কমিশন) ফান্ড থেকে লাইট লাগানোর খরচ করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন যে লাইট আগে থেকেই সাংসদ তহবিলের সাড়ে তিন লক্ষ টাকায় বসানো হয়েছিল, সেই একই প্রকল্পে ফের কেন দেখানো হল নতুন করে টাকা খরচের হিসেব? এর পিছনে বড় কোন দুর্নীতি রয়েছে বলেই অনুমান স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা কর্মীরাও। তাদের অভিযোগ, আগে থেকেই তৈরি থাকা প্রকল্পকে নিজেদের উন্নয়ন বলে দেখাতেই এই বোর্ড বদলের রাজনীতি করছে তৃণমূল। তাদের প্রশ্ন, যদি পঞ্চায়েত সমিতির টাকায় নতুন করে কাজ হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? বিজেপির আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষের টাকায় তৈরি প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। একই প্রকল্পে দু’বার টাকা দেখানোর চেষ্টা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও তদন্তের দাবি তুলেছে গেরুয়া শিবির।
যদিও বিষয়টি নিয়ে দায় এড়িয়েছে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গণেশ মণ্ডল। তাঁর পাল্টা দাবি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হোক। তিনিও স্বীকার করে নেন ওই লাইট প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের তহবিল থেকেই করা হয়েছিল। সেই বোর্ডই লাগানো ছিল। কে বা কারা ওই বোর্ড বা ফলক সরিয়েছে তার জানা নেই। তিনি সাংবাদ প্রতিনিধির কাছ থেকেই প্রথম এই ফলক বা বোর্ড পরিবর্তনের বিষয়টি জানলেন বলে দাবি করে বলেন,”এই লাইট বিজেপির প্রাক্তন সাংসদের তহবিল থেকেই বসানো হয়েছিল। কিন্তু এই বোর্ড পঞ্চায়েত সমিতি থেকে সরানো হয়নি। কে বা কারা করেছে সেটাও জানা নেই।”
এছাড়াও গ্রামে তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সামনে ও তৃণমূল পার্টি অফিসে একাধিক স্ট্রিট লাইট লাগানো হলেও গ্রামের অন্যান্য এলাকায় স্ট্রিট লাইটের কোন ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এবিষয়ে এলাকার বিজেপি কর্মী, সংগ্রাম মুখোপাধ্যায় অভিযোগের সুরে বলেন,”তৃণমূল আমলে প্রতিবাদ করার কোন উপায় ছিল না। প্রতিবাদ করলেই ভয় দেখানো হতো।” অবিলম্বে নেতাদের বাড়ির সামনে থেকে স্ট্রিট লাইট সরিয়ে গ্রামের অন্যান্য রাস্তায় তা লাগানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


















