সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- দীর্ঘ লড়াই ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া এখন স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গেরুয়া শিবিরে যখন উৎসবের আবহ, ঠিক তখনই নেপথ্যে উঠে আসছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন— ঝড়ের দিনেও যারা দলীয় পতাকা ছাড়েননি, ক্ষমতার এই নতুন বিন্যাসে সেই ‘আদি’ কর্মীরা আজ কোথায়?
পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি ও সালানপুরের মতো এলাকায় একসময় হাতে গোনা কিছু কর্মী প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছিলেন। ২০২১ পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়া হওয়া বা সামাজিক বয়কটের শিকার হওয়া সেই পুরনো সৈনিকদের বড় অংশই আজ দলের মূল স্রোতে ব্রাত্য বলে অভিযোগ উঠছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের হাত ধরে যখন গ্রামবাংলায় বিজেপির ভিত তৈরি হচ্ছিল, তখন যারা জেল-জুলুম উপেক্ষা করে লড়েছিলেন, নতুন নেতৃত্বের ভিড়ে তাদের অনেকেই এখন কোণঠাসা। এটা নিয়ে সংগঠনের অন্দরেই আক্ষেপ তৈরি হয়েছে যে, সুসময়ের নতুন মুখদের ভিড়ে দুঃসময়ের কান্ডারিরা হারিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনীতির কারবারিরা মনে করাচ্ছেন, ক্ষমতার পালাবদলে আন্দোলনের আদি কর্মীদের অবজ্ঞা করলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হতে পারে। ভোটের সাফল্য ধরে রাখতে গেলে সেই মুখগুলিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া জরুরি। যারা কঠিন দিনেও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় পিছু হটেননি। সুসময়ের নতুন উল্লাসে পুরনো ত্যাগের ইতিহাস মুছে যাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


















